Showing posts with label কৃষি. Show all posts
Showing posts with label কৃষি. Show all posts

Sunday, December 10, 2017

অসময়ে তিন দিনের বৃষ্টিতে পাইকগাছায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি; ব্যাহত জীবনযাত্রা

পাইকগাছায় নিন্মচাপের প্রভাবে গত তিন দিনের বৃষ্টিপাতে আমন ও সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের প্রভাবে গত শুক্রবার রাত থেকে পাইকগাছার সর্বত্রই শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত। যা রোববার রাত পর্যন্ত মাঝারি আকারে অব্যাহত থাকে।

ছবি : প্রতীকী
অসময়ের এ বৃষ্টিপাতে এলাকার যেসব ক্ষেতের আমন ফসল কাটার উপযোগী হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেকেই যারা পাঁকা ধান কেটে ক্ষেতে রেখে দিয়েছেন সে সব আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন সবজি ফসলের।

কখনো গুড়িগুড়ি আবার কখনো মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। বিশেষ করে গত দু’দিন কোন কাজ করতে পারেনি স্বল্প আয়ের শ্রমীজীবি মানুষেরা। একই সাথে ব্যবসা বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় পানি জমে বিঘ্নিত হয়েছে চলাচল। সবমিলিয়েই অসময়ের এই বৃষ্টিপাতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতিসহ ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

Thursday, December 7, 2017

মেহগনি বীজ থেকে তেল উদ্ভাবন করল পাইকগাছার আজিজুর

বসে নেই পাইকগাছার কপিলমুনির ক্ষুদে কৃষি বিজ্ঞানী মোঃ আজিজুর রহমান। একের পর এক নতুন নতুন উদ্ভাবন করেই চলেছেন। মেহগনির বীজ হতে তেল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন এই উদ্ভাবক। তিনি বলেন, এই তেল পরিবেশ সম্মত এবং কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে সবজিতে ব্যবহার করা যাবে। এর খৈল দ্বারা ঘেরের ক্ষতিকর জীবানুমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণায় জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করলেও তার ভাগ্যে আজও জোটেনি সরকারি স্বীকৃতি।


জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজীমুছা গ্রামের মোঃ আনছার আলী মোড়লের ছেলে মোঃ আজিজুর রহমান। ছোট বেলা থেকে ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির। বাল্যকাল কাটিয়ে উঠে তিনি যখন পা বাড়ালেন শৈশবে, আর তখন থেকেই জীবনটাকে অন্য কায়দায় উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। শৈশবে যখন ছেলেদের মনে উদ্যাম বাসনা, সময় কাটে খেলাধূলা করে আর ঘুরে বেড়িয়ে, সে সময় মোঃ আজিজুর রহমান ভেবেছেন বৃহত্তর কৃষকগোষ্ঠীর  জন্য কিছু করার কথা। ভেবেছেন কিভাবে জীবনের মূল্যবান সময় মানুষের জন্য কাজে লাগনো যায়।

তিনি একের পর এক আবিষ্কার করেন জৈব ও বালাই নাশক কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি ও ভার্মি সার, কম্পোজ মিশ্র সার, গবাদি পশুর জৈব খাবার। যা ব্যবহারে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না।

এই কার্যক্রম পরিদর্শন করে পাইকগাছা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন মোল্লা বলেন, আজিজুরের উদ্ভাবন নিয়ে পূর্বে ফলাও করে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিশেষ কোটায় আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছেন। আম ও ধানের ভাল ফলনের জন্য ঔষধ ও মাছের জৈব খাবার আবিষ্কার করেছেন। যা ব্যবহার করে এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন’।

দঃ সলুয়া গ্রামের আল্লাদ শিকদার, গলডাঙ্গার আব্দুল করিম, বিরাশীর সরদার কামাল, উত্তর সলুয়ার আফছার শেখ ও অর্জুন কর্মকার তার উদ্ভাবিত ঔষুধ ধান ও আমে ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

হরিঢালী আইপিএম এর প্রশিক্ষক আব্দুর রহিম ও আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, মোঃ আজিজুর রহমান তার উদ্ভাবিত ধান ও আমের ওষুধ ব্যবহার করে আমরা অনেক বেশি ফলন পেয়েছি।

হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়া গ্রামে অর্জুন কর্মকার বলেন, আমরা মৎস্য ঘেরে মোঃ আজিজুর রহমান এর উদ্ভাবিত জৈব খাদ্য প্রয়োগ করে মাছ অধিক মোটাতাজা হয়েছে।

সম্প্রতি পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা এইচ এম মোজাহার আলী সরেজমিনে আজিজুরের উদ্ভাবনস্থল ও তার বাড়িতে পরিদর্শনে যান এবং ভূয়সী প্রশংসা ও তার সাফলতা কামনা করেন।

উদ্ভাবন নিয়ে মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার দীর্ঘ দিনের সাধনার ফল ধানের জন্য কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি, ভার্মি সার, আম এবং মৎস্য ও গরুর জৈব খাবার উদ্ভাবন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমার কর্মের উপর আজও সরকারি স্বীকৃতি ও সাহায্য মেলেনি। এ কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মেশিনপত্র প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্যের জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুদৃষ্টি চাই।'

--পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি, পাইকগাছা।