Monday, September 1, 2014

কয়রায় স্টেক হোল্ডার কর্মশালা

কয়রায় ক্রেলের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট প্রধান জলবায়ু আপদ জনগোষ্টির ঝুঁকি ও বিপন্নতার ওপর স্থানীয় স্টেক হোল্ডার দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৩১ আগষ্ট সকাল ১০টায় উপজেলা বিআরডি’র হলরুমে এ কর্মশালায় সিএমসি, পিপলস ফোরাম, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, বন বিভাগের লোকজন অংশগ্রহন করেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন বিসিএএস প্রতিনিধি শেখর কান্তি রায়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যন ও সিএমসি কমিটির সভাপতি এসএম শফিকুল ইসলাম, ক্রেলের দাকোপ-কয়রা সাইট অফিসার মোঃ বাবুল ইসলাম, এনআরএম ফ্যাসিলিটর নুর আলম, আছাদুল্লাহ, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টারের মাতার মৃত্যু; বিভিন্ন মহলের গভীর শোাক

পাইকগাছা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম নূর আলীর স্ত্রী ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মিথুন মাহফুজের মাতা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা লতিফা খানম রানী (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি গতকাল ৩১ আগষ্ট রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে পাইকগাছা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডস্থ নিজস্ব বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ২ পুত্র ও ২ কন্যা’সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আছরবাদ কলেজ মাঠে জানাযা শেষে সরকারি কবরস্থানে মরহুমার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলা বিভাগের প্রভাষিকা হিসেবে পাইকগাছা কলেজে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে অবসরে যান। বর্তমান পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি হওয়ার পূর্বে তিনি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব আকবার হোসেনের শ্বাশুড়ি ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিটিভি ও যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো প্রধান মকবুল হোসেন মিন্টুর বোন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার সকালে মরহুমার বাসভবনে ছুটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স.ম বাবর আলী, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, পাইকগাছা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, অবঃ অধ্যাপক রমেন্দ্র নাথ সরকার’সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের এমপি এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক, বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক ও সাবেক ইউ.এন.ও ড. এএফএম মনজুর কাদির, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আতিয়ুর রহমান, জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান মুন্নি, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন মালা, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবির উদ্দীন, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, অবঃ অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান ও পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

পাইকগাছার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বৈষম্যের শিকার

সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে


বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে ফের চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অধিনস্থ পাইকগাছা জোনাল অফিসের আওতাধীন (পাইকগাছা-কয়রা’র) প্রায় ২৪ হাজার গ্রাহক। ঘন ঘন ট্রিপ ও দীর্ঘস্থায়ী লোড শেডিংয়ের কারণে সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, আকাশে মেঘ জমতে দেখলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, আর যদি সামান্য ঝড়ো হাওয়া হয়েছে তো এক-দু’দিনের মধ্যে আর বিদ্যুতের দেখা মেলে না। বিদ্যুতের এ খামখেয়ালীতে গ্রাহকদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন-ঘন ট্রিপ, লো- ভোল্টেজ ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ধ্বস নেমেছে তেমনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াসহ এখানকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পৌর বাজারের কম্পিউটার কম্পোজ ও ষ্টুডিও ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে আয় করতে পারছি না। বিদ্যুৎ যখন থাকছে তখন মাঝে মাঝে লো-ভোল্টেজ দেখা দিচ্ছে। বাজারের মোবাইল ফোন মেকানিকরা ক্ষোভের সাথে বলেন, সারাদিন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এই আসে এই যায় অবস্থা। ফলে কোন কাজ ধরে শেষ তুলতে পারছি না।

পৌর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে যেসব ওষুধ ফ্রিজে রাখতে হয় এমন অনেক ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের সামনের প্যাথলজী ব্যবসায়ীরা বলেন, বিদ্যুতের অভাবে রোগীদের পরীক্ষা নীরিক্ষা কার্যক্রম সময়মত করতে পারছিনা। ফলে রোগীদের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে লোডশেডিংয়ের কারণে। অভিভাবক মহল দুশ্চিস্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে। দিনভর সীমাহীন লোডশেডিং থাকা সত্ত্বেও প্রত্যহ সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে।