Wednesday, November 5, 2014

পাইকগাছায় দুর্ধর্ষ 'বাবু গাইন'এর বিরুদ্ধে ধর্ষন চেষ্ঠার অভিযোগ

আহত গৃহবধু হাসপাতালে ভর্তি, থানায় মামলা, আটক ১


পাইকগাছায় বহু অপকর্মের হোতা দুর্ধর্ষ যুবনেতা বাবু গাইনের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষন প্রচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় সে এলাকার এক গৃহবধুকে ধর্ষনের চেষ্ঠা করে। আহত গৃহবধুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

থানাপুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শান্তা গ্রামের ইয়াসিন শিকারীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২২) বসত ঘরের খাটের উপর শিশু সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছিল। এসময় বাাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে গড়ইখালী গ্রামের কেসমত গাইনের পুত্র দুধর্ষ যুবনেতা বাবু গাইন ঘরের ভিতর প্রবেশ করে সৌর বিদ্যুতের আলো বন্ধ করে গৃহবধুর উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

এসময় বাঁধা দিতে গেলে বাবু গাইন গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্ঠা করে এবং গৃহবধুকে কিল, ঘুষি, মারপিট করে জখম করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গৃহবধুর স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে তাকে লাথি মেরে পাহারারত সহযোগিদের নিয়ে বাবু গাইন পালিয়ে যায়। ওই রাতেই আহত গৃহবধুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধু ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে বাবু গাইন, ভাই কামরুল গাইন, লুৎফর মোড়লের পুত্র রবিউল মোড়ল ও আমিন গাজীসহ ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে, যার নং-৬। তারিখ ৪/১১/১৪। এ ঘটনায় পুলিশ কামরুল গাইনকে গ্রেফতার করেছে।

উল্লেখ্য, দুর্ধর্ষ এ যুবনেতার চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে বিগত ৫ বছর এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে ওঠে। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তাকে গ্রেফতারের দাবী করা হয়। সাবেক এমপি’র ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন এ নেতা প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকলেও র‌্যাব একবার তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি ও বন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ওসি শিকদার আক্কাস আলী জানান, ধর্ষন চেষ্ঠার ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং মূল আসামীকে গ্রেফতারের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে।

Sunday, November 2, 2014

বাহাদুরের অনাকাঙ্খিত বাহাদুরিতে অতিষ্ঠ পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় !

সহকারী শিক্ষক সুভেন্দু বাহাদুর’এর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ


পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষক সুভেন্দু বাহাদুর’এর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক হিসাবে সুভেন্দু বাহাদুর গত ২৯/০৩/২০১৪ ইং তারিখ অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর হতে তিনি ঠিকমত স্কুলে আসেন না এবং সময়মত শ্রেণীকক্ষেও যান না, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন না। এমনকি সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্রও ঠিকমত তিনি করতে পারেন না বলে ছাত্ররা পাঠদান ও পরীক্ষা দিতে অপারাগতা প্রকাশ করে। এসকল অভিযোগের পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে অসাদাচারণ করেন।

এসব নানাবিধ অভিযোগে কর্তৃপক্ষ গত ২১/০৮/১৪ এবং ২২/১০/১৪ সহ একাধিকবার শোকজ করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে অসদাচারণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহা-পরিচালক বরাবর বদলী ও অপসারনের আবেদন করেন।

এসব অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে রক্ষা করতে পাশ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও ফেল করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ছাত্রদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রেণীশিক্ষক (১০ম শ্রেণী) মোঃ ইমরুল ইসলাম জানান, উনি (সুভেন্দু) ছাত্রদের বিপদগামী করতে ব্লাক বোর্ডে অশ্লীল কথাবার্তা লেখেন।

এ ব্যাপারে প্রধান অপু মন্ডল জানান, সুভেন্দু বাহাদুরের আচার-আচারণ এবং ঠিকমত স্কুলে না আসার ফলে বিদ্যালয়ের শৃৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি সুযোগ পেলেই অফিসিয়াল কাগজপত্র তছরোপ করেন এবং ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবকরা তার কাজে কর্মে সন্তোষ্টু নয়। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বদলীর সুপারিশসহ অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সুভেন্দু বাহাদুর বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কাগজটি আমি উদ্ধার করি। অন্যসব অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন।