Sunday, June 7, 2015

পর্যটনে সম্ভাবনাময় পাইকগাছার রাড়ুলীস্থ স্যার পি.সি রায়ের বসতবাড়ি

নির্মাণ আর স্থাপত্য নির্দশনের এক অপূর্ব সৃষ্টি জগদ্বীখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বসতভিটাকে ঘিরে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলীতে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে পি.সি রায়ের বসতভিটা অপর সম্ভাবনাময় স্থান হওয়া সত্ত্বেও সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সঠিক উদ্যোক্তার অভাবে এতদিনেও গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র। 

তবে কপোতাক্ষ নদের উপর বোয়ালিয়া-রাড়ুলী খোয়াঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হলে পি.সি রায়ের বসতভিটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা শুধু সময়ের ব্যাপার বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্যার পি.সি রায়ের পিতা জমিদার হরিশ্চন্দ্র রায় এবং মাতা ভূবন মোহিনী দেবী। 

আচর্য পি.সি রায়ের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়স থেকে। ১৮৬৬ থেকে ১৮৭০ সাল এ চার বছর কাটে নিজ গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে। ১৮৭১ সালে ভর্তি হন কলকাতার হেয়ার স্কুলে। তারপর ১৮৭৪ সালে অ্যালবার্ট স্কুলে। সেখান থেকেই ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৮১ সালে এফএ পাস করেন তিনি। 

১৮৮২ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হয়ে অনার্সসহ স্নাতক শ্রেণীতে গণিতে অসাধারণ মেধার বলে তিনি গিলক্রাইষ্ট বৃত্তি নিয়ে চলে যান এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই বিএসসি ডিগ্রী নেন। রসায়নশাস্ত্রে গবেষণারত প্রফুল্ল চন্দ্র রায় মারকিউরাস নাইট্রাইট’র মত রসায়নশাস্ত্রে মৌলিক পদার্থ উদ্ভাবন করে সারা বিশ্বকে চমকে দেন। এরপর বিভিন্ন সময় সম্মানসূচক ডিগ্রী ১৮৮৬ সালে পিএইচডি, ১৮৮৭ সালে ডিএসসি, ১৯১১ সালে সিআইই, ১৯১২ সালে আবার ডিএসসি এবং ১৯১৮ সালে ফাদার অব নাইট উপাধিতে ভূষিত হন।

বহুগুণে গুণান্নিত পি.সি রায় ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিক্ষক, শিল্পী ও সমবায়ের রূপকার। সমাজ সংস্কারে মানবতাবোধে উজ্জীবিত ছিলেন তিনি। তদানীন্তন সময়ে পল্লী গ্রামের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় ব্যাংক পদ্ধতি চালু করেন। সমবায়ের পুরোধা স্যার পিসি রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ সালে বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায় পিতার নামে আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

উল্লেখ্য, ১৮৫০ সালে রাড়ুলীতে স্যার পি.সি রায়ের পিতা উপ-মহাদেশে নারী শিক্ষার উন্নয়নকল্পে স্ত্রী ভূবন মোহিনীর নামে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করেন। ১৯৩১ সালে খুলনার নিউ মার্কেটের পশ্চিম পার্শ্বে ২০৫.৯৯ একর জমিতে এপিসি কটন মিল স্থাপন করেন। মিলটির নাম বিভিন্ন সময় পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে খুলনা টেক্সটাইল পল্লী নামকরণ করা হয়েছে। বাগেরহাটে পিসি কলেজ স্থাপন করেন। 

দেশ-বিদেশে তার প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আজও অবিরাম মানব সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর পদচারণা ও নিজ হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আজও অবহেলিত রয়েছে। পি.সি রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটার ভবনগুলো যথাযথ রণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে। এখনই সংরক্ষণে পদক্ষেপ না নিলে এক সময় তা কালের বিবর্তে হারিয়ে যাবে।

ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। ১৯৪৪ সালে ১৬ জুন জীবনাবসান ঘটে বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের। ফাদার অব নাইট্রাইট খ্যাত বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞনী স্যার আচার্য পিসি রায়ের ভিটেবাড়ির ভবনগুলোও আজও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বসতভিটা প্রত্নতত্ব বিভাগের সংরক্ষণে রয়েছে। বাড়িটির স্থান বিশেষ সিমেন্ট মাটির ঘঁষামাজা ও কোথাও কোথাও চুনকামের আঁচড় ছাড়া সংরক্ষণের তেমন কোন ছোয়া লাগেনি। শ্রীহীন ভবনগুলোর কোথাও কোথাও ভেতরের ইট উঁকি দিচ্ছে খসে পড়বে বলে। স্বধীনতার পরবর্তী সময় বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা চলে বিজ্ঞানী পি.সি রায়ের বসতভিটা অবৈধ দখলের। 

সর্বশেষ ২০০৯ সালে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে স্যার পি.সি রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা দখল করে নেয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ফুঁসে উঠে পিসি প্রেমী এলাকার সচেতন মানুষসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। কঠোর আন্দোলনের মুখে যে সময় রাতের অন্ধকারে মূল্যবান অনেক সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায় দখলদাররা।
গত কয়েক বছর যাবৎ সরকারী উদ্যোগে পালিত হয়ে আসছে পি.সি রায়ের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী। ওই দিন দেশ-বিদেশ থেকে অনেক অথিতি আসেন রাড়ুলীতে। যদিও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক আসেন না। 

জেলা শহর থেকে স্যার পি.সি রায়ের জন্ম ভূমির পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। তবে কপোতাক্ষ নদের উপর বোয়ালিয়ায় নির্মাণধীন ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটবে। স্যার পি.সি রায়ের জন্মভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং জাতীয়ভাবে তার জন্মবার্ষিকী পালন করা হোক এটাই এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেন।

--প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা।

Tuesday, May 5, 2015

পাইকগাছার সন্তান ‘আবদুস সামাদ’এর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন

আগে ফাগুন এলেও বুঝতে পারত না দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। কোনদিন কী বার তা জানতেও তাদের অন্যের সাহায্য নিতে হতো। কিন্তু এখন ক্যালেন্ডারে হাত দিয়েই তারা বলতে পারবে দিন, মাস ও বছর ! কোনদিনে কী ধর্মীয় উৎসব তাও জানতে পারবে নিজে নিজেই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এমন অভিনব এক ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন করেছেন আবদুস সামাদ। চট্টগ্রাম সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তিনি। ব্রেইল পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো তৈরি করা তার এ ক্যালেন্ডার এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। 

আবদুস সামাদ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্করবাড়ির মৃত সমেজ উদ্দীন ফকিরের ছেলে। তিনি ১৯৭৬ সালে পাইকগাছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৮ সালে খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৮৩ সালে ঢাকার আবুজর ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ ও ১৯৯৬ সালে বিএসইডি পাস করেন। ১৯৮৪ সালে রাজশাহী সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। 

১৯৭৭ সাল থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর বই ও বিভিন্ন লেখকের বই ব্রেইল পদ্ধতিতে তৈরি করে আসছেন শিক্ষক আব্দুস সামাদ। এর মধ্যে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের নকশিকাঁথার মাঠ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের গল্প বই, নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন ও কবি সুফিয়া কামালের জীবনী, স্নাতকের নীতিবিদ্যা, ডিগ্রির ইংরেজি বই উল্লেখযোগ্য। ব্রেইল পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১২০টি বই তৈরির কথা জানিয়েছেন আবদুস সামাদ। ব্রেইল পদ্ধতিতে বই তৈরি করতে কাগজে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় বলে তিনি জানান।

ব্যতিক্রমী এ উদ্ভাবন প্রসঙ্গে আবদুস সামাদ বলেন, 'দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অনেক চাওয়া পূর্ণ হয় না। তার মধ্যে একটি চাওয়া হলো স্বাভাবিক মানুষের মতো নতুন বছরে নতুন ক্যালেন্ডার হাতে পাওয়া। ক্যালেন্ডার না পাওয়ার কারণে অনেক বিষয় অজানা থাকত তাদের। দেরিতে হলেও তাদের হাতে ব্রেইল পদ্ধতির ক্যালেন্ডার তুলে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।' 

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে তিনশ' কপি ক্যালেন্ডার ছাপানো হয়েছে। এ জন্য দুই রিম কাগজ দিয়েছে রোটারি ক্লাব অব চিটাগং ওশান ব্লু। ব্রেইল পদ্ধতিতে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন দিন। তার পর তা ব্রেইল প্রিন্টারের (ইমবোসার) মাধ্যমে তিনশ' কপি ছাপানো হয়। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের এলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাকিব হাসান ও মালয়েশিয়া প্রবাসী দিদারুল আলম সহযোগিতা করেছেন। দিদারুল আলম ৫৯৫ ডলার মূল্যের ব্রেইল মেশিনের 'ডাক্সবারি ব্রেইল সফটওয়্যার' দিয়েছেন। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্যালেন্ডার, বই ইত্যাদি সহজে ও কম সময়ে কনভার্ট করা যায়। ক্যালেন্ডার তৈরিতে কিছু কারিগরি সমস্যার সৃষ্টি হলেও তা এ সফটওয়্যারটি সমাধান করে দিয়েছে। 

ব্রেইল পদ্ধতিতে তৈরি ক্যালেন্ডার ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের পাঁচটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টি করে ও স্কুলে ১০টি করে পাঠানো হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ জন হওয়ায় সেখানে ৬০টি কপি পাঠানো হয়েছে বলে আবদুস সামাদ জানান। শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে মনীষীদের উপদেশমূলক উদ্ধৃতি : ব্রেইল পদ্ধতিতে তৈরি ক্যালেন্ডারটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কেবল দিন, মাস, বছরই জানাবে না; তারা এ থেকে জানতে পারবে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত মনীষীদের উপদেশ ও পরামর্শমূলক বেশ কিছু উদ্ধৃতিও। 

ক্যালেন্ডারটিতে তুলে ধরা হয়েছে মাদার তেরেসার 'আনন্দ প্রার্থনার মতো, এটা শক্তি', জর্ন ওরিয়েনের 'দুনিয়াটি মিথ্যাময় হয়ে গেছে, সত্য বলাটাই বিপ্লব কাজ', শেকসপিয়রের 'কাজের মধ্যে আনন্দ থাকে', বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের 'তিনটি জিনিস কারও কাছে লুকানো যায় না_ সূর্য, চাঁদ ও সত্য', গ্রিস লেখক ইশপের 'দয়া কখনও বৃথা যায় না, যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন'সহ আরও কয়েকজন বিখ্যাত মনীষীর উদ্ধৃতি। 

ক্যালেন্ডার পেয়ে স্বপ্ন পূরণচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. একরাম আলী। প্রথমবারের মতো হাতে ক্যালেন্ডার পেয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। একরাম বলেন, 'রাত শেষ হয়ে দিন আসত। কিন্তু আজ কী বার, কত তারিখ ও কোন মাস তা অন্যের কাছ থেকে জানা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এ ছাড়া জানতে পারতাম না বছরে কতদিন সরকারি ছুটি, কখন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এখন ব্রেইল ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে এসব নিজেই জানতে পারছি।' 

চট্টগ্রাম সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেবেকা আক্তার রুনা বলেন, 'প্রথমবারের মতো হাতে ব্রেইল পদ্ধতিতে ক্যালেন্ডার পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল শিক্ষক আবদুস সামাদের কারণে।'

Monday, May 4, 2015

পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে; আহত ২৫

পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কে যাত্রীবাহী বাস পাল্টি খেয়ে খাদে পড়ে কমপক্ষে ২৫ যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পাইকগাছা-তালা সীমান্তের ঘোষনগর এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। 

পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কটি বর্তমানে চলাচল উপযুক্ত ! রাস্তা যেহেতু ভালো তাই ড্রাইভিংয়ের সময় গতিসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটে অহরহ। আর এটিই হাঠাৎ করে পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কে দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি অন্যতম কারণ !

ছবি তুলেছেন :: রানা ঘোষ
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা পৌর বাসস্ট্যান্ড থেকে খুলনা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গেলে যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। 

এ ঘটনায় পাইকগাছা-কয়রা খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি অন্দ্রিয় ডি রোজারিও, এ্যাডঃ ইদ্রিসুর রহমান মন্টুর কন্যা মুনমুন রহমান‘সহ কমপক্ষে ২৫ যাত্রী আহত হয়। আহতদের তাৎক্ষনিকভাবে কপিলমুনি ও তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই পাইকগাছার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন আন্দ্রিয় ডি রোজারিও।

ছবি তুলেছেন :: রানা ঘোষ