Wednesday, September 2, 2015

এমপি নুরুল হক’সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কপিলমুনি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক’সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নূরুল হক এমপি কপিলমুনি মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।

১লা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরীর আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কলেজ পরিচালনা পর্যদের সভাপতি, কলেজ উপাধ্যক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাযার্চকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ‬ দর্শানোর‬ ‪‎নির্দেশ‬ দিয়েছেন। অন্যথায় নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করা হবে বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

কুমিরা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আব্দুল গফুর মোড়ল বাদী হয়ে পাইকগাছার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-১৯৭/১৫)।

মামলার বাদী প্রভাষক আব্দুল গফুর মোড়ল অভিযোগ করেন, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বাদী ওই পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেন। ৭ আগস্ট তিনি খুলনার সরকারী বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায়ও হাজির হন। 

কিন্তু কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় এমপি শেখ মোঃ নূরুল হক সে সময় হরিঢালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও তার ভাই বিএল কলেজের শিক্ষক হারুন সরদারের মাধ্যমে তার কাছে টাকা দাবি করেন। এ কারণে তিনি পরীক্ষা না দিয়েই ফিরে যান। পরবর্তীতে বিবাদীরা পরস্পরের যোগসাজশে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এ কারণেই তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অপর বিবাদীরা হচ্ছেন, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ত্রিদিব কান্তি মন্ডল, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য কালিদাস চন্দ্র চন্দ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএস বিভাগের পরিচালক ড. মো. শহীদুল্লাহ, বিএল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর গুলশান আরা বেগম ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

Sunday, August 30, 2015

‎অবশেষে‬ পাইকগাছা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজহার আলী বরখাস্ত

৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


পাইকগাছা সিনিয়র মাদ্রাসার আলোচিত দূর্নীতি পরায়ণ অধ্যক্ষ আজহার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় শনিবার পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় অধ্যক্ষ আজহার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

উল্লেখ্য, পাইকগাছা সিনিয়র মাদ্রাসার আলোচিত অধ্যক্ষ আজহার আলী ইতোপূর্বে ‪‎চেক‬ জালিয়াতির‬ মামলায় জেল‬ ‪‎খাটেন‬ এবং সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তিনি আবারো যোগদানের পর ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। 

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু নিরীক্ষার জন্য উপজেলা সমবায় অফিসার এফএম সেলিম আখতারকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠণ করেন।

কমিটির নেতৃবৃন্দ গত ২৫ মে চূড়ান্ত অডিট প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মাদ্রাসার অধিনস্থ খাল ইজারার অর্থ, বিদ্যুৎ বিল ও টিউশন ফি বাবদ ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮৭ টাকা আত্মসাত করেছেন মর্মে অডিটে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও পরবর্তীতে খাল ইজারা বাদ ৯৩ হাজার, ২৩ জন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাংক ড্রাফট বাবদ ১১ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সব নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যানেজিং কমিটি সভায় সকল সদস্যের উপস্থিতিতে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অধ্যক্ষ আজহার আলীকে শোকজ করা হয়।

সর্বশেষ শনিবার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অধ্যক্ষ আজহার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রভাষক নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বলে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান ও প্রতিষ্ঠাতা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এড. স ম বাবর আলী জানান।

Saturday, August 29, 2015

পাইকগাছায় স্কুলছাত্রীর মুখমণ্ডল ঝলসে দিয়েছে ‪ভণ্ড‬ ‪কবিরাজ‬

পাইকগাছায় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর ঘাড় থেকে ভূত নামানোর নামে আগুন দিয়ে মুখমণ্ডল ঝলসানোর পাশাপাশি তার বাম চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে জখম করেছে পাইকগাছার গদাইপুরের ভণ্ড কবিরাজ মুফতি মাওলানা বুরহানউদ্দীন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে। 

পাইকগাছার চেঁচুয়া গ্রামের সাহেব আলী সরদারের কন্যা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী আম্বিয়া খাতুন হঠাৎ কয়েকদিন ধরে বেহুশ হয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাচ্ছে। 

এর একপর্যায়ে মঙ্গলবার চরমলই গ্রামে মাওলানা বুরহানউদ্দীন আম্বিয়াকে তার নতুনবাজার গাজী মর্ডান হেলথ সেন্টারে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে মাটির পাত্রে আগুন দিয়ে তার মুখে চেপে ধরে। সে ছটফট করতে থাকলে আরও লোকজন নিয়ে তাকে ঝাপটে ধরে। যাতে তার মুখের চারপাশ পুড়ে ঝলছে যায়।