Saturday, April 23, 2016

পাইকগাছায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস

পাইকগাছার বোয়ালিয়া সাধুখা পাড়ায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ১৬০ বছরের জরাজীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি দ্বিতল ভবনে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাস করছেন ৩ পরিবারের ১২ জন সদস্য। ভূমিকম্পের চরম হুমকিতে থাকা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এ ভবনটি ধ্বসে যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে কোন বড় ধরণের প্রাণঘাতি দূর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকির অভাব ও পরিবারগুলির মানষিকতার অভাবে ভবনটি ভাঙ্গা সম্ভব হচ্ছেনা। 

যৌথ মালিকানার বাড়িটির এক শরিকের কারণে নাকি বাড়িটি ভাঙ্গা যাচ্ছেনা এমন অভিযোগ ও তার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন বাড়িটির আরেক অংশীদার পিযুষ কান্তি সাধু।



অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার গদাইপুরের বোয়ালিয়া সাধুখা পাড়ায় যৌথ মালিকানার ১৬০ বছরের জরাজীর্ণ ঐ ভবনটিতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন জনৈক রনজিত সাধুসহ তার দু’ভাইয়ের ৩ পরিবারের ১২জন সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ফলে অন্যান্য স্থাপনার পাশাপাশি কেঁপে উঠে ঐ ভবনটিও। তবে তাতে ভবনটির বড় ধরণের কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা তা জানা সম্ভব না হলেও ভবনটির আশপাশে বসবাসরত মানুষরাও আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। 

যত দ্রুত সম্ভব স্থাপনাটি ভেঙ্গে না ফেললে তাতে বসবাসরত মানুষদের পাশাপাশি নিকটবর্তী এলাকায়ও ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের প্রাণঘাতি দূর্ঘটনা এমনটি আশংকা এলাকাবাসীর। এদিকে যৌথ মালিকানার ভবনটির অন্যতম অংশীদার ব্যবসায়ী পিযুষ কুমার সাধু প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ঐ অভিযোগটি দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল আমিন বলেন, জান মালের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন সব সময় সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নববর্ষের প্রার্থনা (‎কবিতা‬)

মোঃ আবুল আমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পাইকগাছা।


নববর্ষের নতুন পূজায় উথাল পাথাল মন,
নতুন বছর নতুন করে এনে দিল শুভক্ষণ।

নতুন প্রাণে নতুন সুরে প্রার্থণা তব তরে,
বিধাতার ধন আলো হয়ে রবে শূন্য মাটির ঘরে।

বিধির বিধান পাল্টাবে জানি নতুন স্বপ্ন হয়ে,
নবজাগরণে হৃদয়ের টানে কালো মেঘ যাবে ক্ষয়ে।

এই বাংলায় বর্ষবরণে বাঙালির প্রেমগাঁথা,
বৈশাখ যেন কোটি বাঙালির নাড়ির বাঁধনে বাঁধা।

দুচোখ ভরা স্বাধীন স্বপ্ন এঁকে যাই মনে মনে,
নববর্ষের সুখ স্মৃতিখানি নাড়া দেবে ক্ষণে ক্ষণে।

নবজীবনের পরশ দিল বাংলার মাঠে ঘাটে,
রং লহরী ছড়িয়ে পড়ল গ্রাম শহরের বাটে।

নতুন আগামীর আগমনী গান; বৈশাখী হাওয়ায় দোলে,
শ্রান্ত মেঘের গর্জণ শুনি ঈশান বায়ুর কোলে।

মেঘের ফাঁকে রোদ হেঁসে যায় নতুন ছন্দ নিয়ে,
উড়ে যায় পাখি দোয়েল, চঁড়ুই নতুন গান শুনিয়ে।

জলহীন নদী ঘাটে নেই বাঁধা নৌকার সারি সারি,
কাঠফাঁটা রোদ শ্রান্ত হৃদয় প্রকৃতির আহাজারি।

তান্ডবনাচে কালবৈশাখী সব করে ভাংচুর,
তবু হেসে যায় বাঙালী হৃদয় হারালেও সব সুর।

বিষন্ন মন আর্ত হৃদয় তবু চলে পথচলা,
নববর্ষ ঝরে পড়ো হয়ে উর্বষী মেঘমালা।

স্রষ্টার আশিস বর্ষিত হোক বাঙালির শিরে শিরে,
নববার্তায় নতুন বছর আসুক আবার ফিরে।

নতুন ধানে নব অন্নে ভরে যাক অন্তর,
নতুন হাসিতে উঠুক জেগে বাংলার প্রান্তর।

Friday, April 22, 2016

পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি

বেড়েছে চুরি-ডাকাতি; দখল-পাল্টা দখল মহড়া অব্যাহত


পাইকগাছায় দু’টি প্রভাবশালী গ্রুপের দখল-পাল্টা দখলের মহড়া, পৌর সদর'সহ ১০টি ইউনিয়নের প্রায় সব ক’টিতে চুরি-ডাকাতির ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে একরকম অস্থিরতা। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে দোকান-পাটে একের পর ঘটে চলেছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। পাইকগাছায় আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনি সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে শুরু হয়েছে সরকার দলীয় ব্যানারে দখল-পাল্টা দখলের মহড়া।

এলাকাবাসীর মধ্যে এনিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্নতা ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এজন্য মূলত একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীন কোন্দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসিনতাকেই দায়ি করছেন। যা পুলিশের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সাধারণের কাছে। পছন্দমত ব্যক্তির মামলা রেকর্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব সহ বহুবিধ অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পাইকগাছায় পৌর সদরের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দরজা ভেঙ্গে দূধর্ষ চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ২৭ জানুয়ারি পৌর সদরের ৪, ৬ ও ৮ নং ওয়ার্ডে চুরি সংঘটিত হয়। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারী পাইকগাছা পৌর সদরের এক প্রকৌশলীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সঙ্গবদ্ধ ডাকাতরা নগদ অর্থ ও স্বর্নালন্কার’সহ প্রায় ১১ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রকৌশলী হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের বাড়িতে দুধর্ষ এ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। প্রকৌশলীর বাড়িতে ডাকাতির ৩ দিন পর ১০ ফেব্রুয়ারি পাইকগাছায় একই রাতে ৩ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দূধর্ষ চুরি ও ডাকাতি সংগঠিত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি ছুরি উদ্ধার করে। ওইদিন গদাইপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মোড় নামক স্থানে এ ডাকাতি সংগঠিত হয়। বোয়ালিয়া মোড়ের তপন দাশের তন্ময় ফার্মেসী, আবুল কালাম আজাদের সেবা ফার্মেসী ও অজিয়ার রহমানের টেইলর্সের দোকান থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা ও ঔষধ সামগ্রী এবং সিট কাপড় নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। অনূরুপ ভাবে একই রাতে গদাইপুর গ্রামের মৃত শৈলেন্দ্র নাথের ছেলে স্বর্ন ব্যবসায়ী শ্যাম সুন্দর ভদ্রের বাড়িতে দূধর্ষ ডাকাতির সময় বাড়ির লোকজনের আর্তচিৎকারে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বলে জানায় পারিবারিক সূত্র।

এরপর গত ২০ মার্চ ইউপি নির্বাচন মুহুর্তে বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক এর পৌর সদরের বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যানের পৌরসভাস্থ বাসভবনে ৮/১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে প্রায় ৩০লক্ষ টাকার মালামাল (নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার) নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বেদম মারপিট করে পালিয়ে যায় তারা। সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল পাইকগাছায় অবসর প্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে দূধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় সেনা দম্পতি সহ ৩ জন আহত হয়ে এখনো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আলহাজ্ব লিয়াকত আলী গোলদারের বাড়ির গেট ও বারান্দার গ্রীল কেটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে। এ সময় ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে লিয়াকত আলী বের হওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা লিয়াকত (৫৫) ও তার স্ত্রী নার্গিস পারভীন (৩৮) কে কুপিয়ে জখম করে। সেনা দম্পত্তির আত্মচিৎকারে সিরাজুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী এগিয়ে আসেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এসব ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করলেও ডাকাতি হওয়া কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি থানা পুলিশ। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল আমিন বলেন, কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক।

এছাড়া গত ২২ মার্চ প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার এড়াতে কয়েকটি ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম প্রায় পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। ঐ সকল ঘটনায় থানায় ৭/৮ টি মামলা দায়ের হয়। 

এর আগে সরকার দলীয় এক নেতার বাড়ি দখল নেয় সরকারেরই স্থানীয় সাংসদের নেতৃত্বে তার লোকজন। ঐ ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে বেদখল হওয়া একটি ইট-ভাটা উদ্ধারের নামে পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটে। নানাবিধ ঘটনায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও তার ছেলে শেখ মনিরুল ইসলামের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ !

--আমিনুল ইসলাম বজলু, পাইকগাছা।