Monday, February 27, 2017

এম‌পি নুরুল হক'কে ঢাকায় পা‌র্টি অ‌ফিসে তলব

পাইকগাছায় আ’লীগ নেতার বাড়ির চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হক'কে ঢাকায় আওয়ামী লীগের পা‌র্টি অ‌ফিসে তলব করেছেন সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রবিবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ওই এম‌পিকে ঢাকায় পা‌র্টি অ‌ফিসে তলব করে‌ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি ওই দেয়াল ভেঙে ফেলতে পু‌লিশকে নির্দেশ দিয়ে‌ছি, রাতেই বে‌শিরভাগ অংশ ভাঙা হয়েছে।


খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবরুদ্ধ দেয়াল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি নজরদারি করা হয়, যে কারণে রোববার দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়।

গত ক’দিন ধরে ‘উঁচু দেয়াল তৈরি করে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা’ গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ফলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌছালে খোদ আ’লীগ ও প্রশাসন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। সর্বশেষ শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল হাসানের উপস্থিতিতে আলোচিত এ দেয়াল অপসারণ করা হয়।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ায় ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা পড়েছেন বিপাকে।

এমপিপুত্রের তোলা দেয়াল ভাঙলো ভ্রাম্যমাণ আদালত

পাইকগাছায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ঘিরে দলেরই সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের ছেলে মনিরুল ইসলামের তোলা সেই দেয়াল ভেঙে ফেলেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল হাসানের উপস্থিতিতে এ দেয়াল অপসারণ করা হয়। এসময় স্থানীয় বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল। 



পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফকরুল হাসান জানান, তারা এসে আবদুল আজিজের দলিলপত্র দেখেছেন এবং বিরোধীপক্ষের বক্তব্যও শুনেছেন। এরপর দেয়াল ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আজিজের বাড়ির চারপাশে উঁচু দেয়াল তৈরি করে বাড়িটিতে যাওয়া-আসার রাস্তা বন্ধ করে দেন এমপিপুত্র মনিরুল। ফলে মই দিয়ে দেওয়াল টপকে কিংবা দেওয়ালের নিচ দিয়ে করা সুরঙ্গ দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা। এর ফলে এক প্রকার বন্দিদশায় জীবন কাটাচ্ছিলেন আবদুল আজিজসহ তার পরিবারের সাত সদস্য।



'ভয়েস অফ পাইকগাছা'সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবরুদ্ধ দেয়াল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি নজরদারি করা হয়, যে কারণে রোববার দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়।

পাইকগাছা থানার ওসি মারুফ আহমেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এমপিপুত্রের তোলা দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী আজিজ গোলদারের শ্রমিকরা দেয়াল ভেঙে বাড়িতে প্রবেশে পথ বের করেছেন। অবৈধভাবে দেয়া পুরো দেয়াল ভেঙে ফেলার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।



পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ গোলদার বলেন, এখানে তার জমির পরিমাণ ২০ দশমিক ৭৫ শতক। প্রায় ৭০ বছর ধরে বাড়িটিতে তারা বসবাস করছেন। “কিন্তু গত জানুয়ারি মাসে সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের ছেলে শেখ মনিরুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি করে জমি ছেড়ে দিতে বলেন।” তিনি বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় অবরুদ্ধ থাকার খবর প্রকাশের পর রোববার দেয়াল ভেঙে দেওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। এর কারণে গণমাধ্যম ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আজিজ গোলদার।



জমির প্রকৃত মালিক ঠাকুর দাশ হালদার জানান, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তাদের দখলে ছিল। ১৯৯৬ সালের দিকে জমিটি খাস তালিকাভূক্ত হয়ে খাস খতিয়ানে যায়। এ অবস্থায় গত বছরের শুরুতে জমিটি উদ্ধার করার জন্য স্থানীয় এমপির সহযোগিতা কামনা করা হয়েছিল। সে সময় জমিটি মুক্ত করার সুবিধার্থে এমপিপুত্র শেখ মনিরুল ইসলামের নামে বিনা অর্থে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া হয়েছিল।

সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হক জানান, প্রাচীর ভেঙে পথ বের করার বিষয়টি শুনেছি। সেখানে বিকল্প একটি পথ থাকলেও জনস্বার্থে আরও ২টি জায়গা থেকে পথ বের করলেও আমার কিছু বলার নেই।

আরও পড়ুন ::  'উঁচু দেওয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এমপি'

Thursday, February 23, 2017

'উঁচু দেওয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এমপি'

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ নুরুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উৎখাত চেষ্টার। সে জন্য কয়েক ফুট উঁচু দেয়াল তুলে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এমপি পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানাচ্ছেন বাদীপক্ষ।

পাইকগাছার স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী মোহাম্মদ আজিজ এবং তার পরিবারের অভিযোগ, যে বাড়িটিতে সত্তর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন, তাকে ঘিরে গত বছরের জানুয়ারিতে বেশ কয়েক ফুট উঁচু ইটের দেয়াল তৈরি করে তাদের অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

আর এই অভিযোগ এসেছে খোদ খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ নুরুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে।

পরিবারের মহিলাদের বাইরে যেতে হচ্ছে মই দিয়ে দেওয়াল টপকে


আজিজের পরিবার বলছে, বাড়ি থেকে বের হতে হলে মইয়ের সাহায্যে প্রাচীর ডিঙোতে হয়। বাড়ির বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য বিষয়টি খুবই ঝূঁকিপূর্ণ এবং অমানবিক। বর্তমানে তারা দেয়ালের নিচে গর্ত খুঁড়ে আসা-যাওয়া করছেন বলে জানান মোহাম্মদ আজিজের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "আমার মা-বাবা বা আমরা তো বাড়ি ছেড়ে যাইনি। শত কষ্ট হলেই এখানেই আছি। আমাদের প্রাচীর টপকে মই দিয়ে যেতে হয়। কোনও একটা রাস্তা নেই।" "আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চা আছে, ওকেও এভাবে স্কুলে যেতে হয়। এখন আমরা দেয়ালের নিচে একটা গর্ত খুঁড়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছি। গেলে তাদের রাস্তার ওপর দিয়ে যেতে হয়", জানান তিনি।

কখনও বা তারা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন দেওয়ালের নিচে গর্ত খুঁড়ে


বিষয়টি তাদের জন্য চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় আজিজ পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটো মামলার ‌একটির বাদী তিনি। অপর মামলাটি করেছেন তার বাবা মোঃ আজিজ নিজে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করতে গিয়েও তাদের হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে জানান মোহাম্মদ আজিজের পরিবার।

একটি মামলায় বসত-ভিটা দখলের অভিযোগ আনা হয়। দ্বিতীয় মামলা হয় বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের অভিযোগে। দুটো মামলাতেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে শেখ মনিরুল ইসলাম-সহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় এমপি শেখ নুরুল হকের পরিবারও পাল্টা মামলা করেন। অভিযোগ চাঁদাবাজির। বিষয়টিতে তদন্তও করছে পুলিশ।

মোহাম্মদ আজিজের বাড়িকে ঘিরে এই সেই বিতর্কিত দেওয়াল


কিন্তু কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত?

এ প্রসঙ্গে এ মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "সত্তর বছর ধরে মোঃ আজিজের পরিবার ক্রয়সূত্রে ওই জমিতে বসবাস করছে। ওই জমির পাশের অর্পিত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ স্থানীয় এমপির ছেলের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে লিজ নেওয়ার পর শুরু হয় জমি নিয়ে বিরোধ।"

"কারণ মেপে দেখা যায় ৩০ শতাংশ আছে। ফলে বিবাদী পক্ষ দাবি করছে আজিজের বসতবাড়ির ২০ শতাংশ তাদের। এরপর তারা প্রাচীর তুলে দেয়", বলছিলেন তিনি। ওই দেয়াল ১০ ফুটের মত উঁচু বলে জানান তিনি। তবে এই জমিতে আজিজের পরিবার নিয়মিত খাজনা দেওয়া-সহ জমির আনুষঙ্গিক কাজকর্ম করে আসছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, জানান পুলিশের এই সাব ইনস্পেক্টর। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আজিজের পরিবার বলছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একাধিকবার তদন্তও হয়েছে। তবে সব কিছুর পরও এক বছর ধরে তাদের উঁচু দেয়ালের আড়ালে বন্দীর মত থাকতে হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা আদালতে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করছে পরিবারটি।