Thursday, February 23, 2017

'উঁচু দেওয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এমপি'

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ নুরুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উৎখাত চেষ্টার। সে জন্য কয়েক ফুট উঁচু দেয়াল তুলে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এমপি পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানাচ্ছেন বাদীপক্ষ।

পাইকগাছার স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী মোহাম্মদ আজিজ এবং তার পরিবারের অভিযোগ, যে বাড়িটিতে সত্তর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন, তাকে ঘিরে গত বছরের জানুয়ারিতে বেশ কয়েক ফুট উঁচু ইটের দেয়াল তৈরি করে তাদের অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

আর এই অভিযোগ এসেছে খোদ খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ নুরুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে।

পরিবারের মহিলাদের বাইরে যেতে হচ্ছে মই দিয়ে দেওয়াল টপকে


আজিজের পরিবার বলছে, বাড়ি থেকে বের হতে হলে মইয়ের সাহায্যে প্রাচীর ডিঙোতে হয়। বাড়ির বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য বিষয়টি খুবই ঝূঁকিপূর্ণ এবং অমানবিক। বর্তমানে তারা দেয়ালের নিচে গর্ত খুঁড়ে আসা-যাওয়া করছেন বলে জানান মোহাম্মদ আজিজের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "আমার মা-বাবা বা আমরা তো বাড়ি ছেড়ে যাইনি। শত কষ্ট হলেই এখানেই আছি। আমাদের প্রাচীর টপকে মই দিয়ে যেতে হয়। কোনও একটা রাস্তা নেই।" "আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চা আছে, ওকেও এভাবে স্কুলে যেতে হয়। এখন আমরা দেয়ালের নিচে একটা গর্ত খুঁড়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছি। গেলে তাদের রাস্তার ওপর দিয়ে যেতে হয়", জানান তিনি।

কখনও বা তারা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন দেওয়ালের নিচে গর্ত খুঁড়ে


বিষয়টি তাদের জন্য চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় আজিজ পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটো মামলার ‌একটির বাদী তিনি। অপর মামলাটি করেছেন তার বাবা মোঃ আজিজ নিজে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করতে গিয়েও তাদের হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে জানান মোহাম্মদ আজিজের পরিবার।

একটি মামলায় বসত-ভিটা দখলের অভিযোগ আনা হয়। দ্বিতীয় মামলা হয় বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের অভিযোগে। দুটো মামলাতেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে শেখ মনিরুল ইসলাম-সহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় এমপি শেখ নুরুল হকের পরিবারও পাল্টা মামলা করেন। অভিযোগ চাঁদাবাজির। বিষয়টিতে তদন্তও করছে পুলিশ।

মোহাম্মদ আজিজের বাড়িকে ঘিরে এই সেই বিতর্কিত দেওয়াল


কিন্তু কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত?

এ প্রসঙ্গে এ মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "সত্তর বছর ধরে মোঃ আজিজের পরিবার ক্রয়সূত্রে ওই জমিতে বসবাস করছে। ওই জমির পাশের অর্পিত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ স্থানীয় এমপির ছেলের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে লিজ নেওয়ার পর শুরু হয় জমি নিয়ে বিরোধ।"

"কারণ মেপে দেখা যায় ৩০ শতাংশ আছে। ফলে বিবাদী পক্ষ দাবি করছে আজিজের বসতবাড়ির ২০ শতাংশ তাদের। এরপর তারা প্রাচীর তুলে দেয়", বলছিলেন তিনি। ওই দেয়াল ১০ ফুটের মত উঁচু বলে জানান তিনি। তবে এই জমিতে আজিজের পরিবার নিয়মিত খাজনা দেওয়া-সহ জমির আনুষঙ্গিক কাজকর্ম করে আসছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, জানান পুলিশের এই সাব ইনস্পেক্টর। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আজিজের পরিবার বলছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একাধিকবার তদন্তও হয়েছে। তবে সব কিছুর পরও এক বছর ধরে তাদের উঁচু দেয়ালের আড়ালে বন্দীর মত থাকতে হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা আদালতে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করছে পরিবারটি।

Wednesday, February 22, 2017

সাংবাদিকতায় একুশে পদক পেলেন পাইকগাছার কৃতি সন্তান স্বদেশ রায়

'ভয়েস অফ পাইকগাছা'র পক্ষ থেকে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিককে অভিনন্দন !


মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশকের প্রগতিশীল সাংবাদিকতা এবং বিরুদ্ধ সময়ে দাঁড়িয়ে কলামে-সাহিত্যে সাহসী উচ্চারণের স্বীকৃতি পেলেন পাইকগাছার কৃতি সন্তান স্বদেশ রায়। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছরের একুশে পদক পেয়েছেন দেশবরেণ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি পাওয়া এ সাংবাদিক। 

স্বদেশ রায় বলেন, ‘একুশে পদক পেয়ে ভালোই লাগছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে আরও বেশি বেশি কাজ করতে ও ভূমিকা-অবদান রাখতে প্রেরণা যোগাবে এ পদকপ্রাপ্তি’।



পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দুঃসহ ক্রান্তিকাল প্রতিরোধে প্রতিবাদে-সংগ্রামে দ্রোহের বন্ধুর পথে হেঁটেছিলেন ১৯৬১ সালের ৫ জুন পাইকগাছায় জন্ম নেওয়া স্বদেশ রায়। খুনিদের হটানোর সশস্ত্র আন্দোলনে সহায়তার পথ ধরে যোগ দেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। পাইকগাছা, খুলনা, বাগেরহাটের শিক্ষা জীবনকালে এজন্য তার ওপর জারি হয় হুলিয়াও।

এর মধ্যেও ১৯৭৭ সালে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৮১ সালে বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন।



এরপর স্বদেশ রায় চলে আসেন ঢাকায় আর ১৯৮৩ সালে এরশাদের স্বৈর শাসনামলে নিজের ভেতরকার দ্রোহের উচ্চারণের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন কলমকে। পরিণত হন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রক্ষা তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্ত স্বদেশ গড়বার বলিষ্ঠ, সত্যনিষ্ঠ, সাহসী সাংবাদিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক করার পর আইসিএম বিষয়ে এবং এমবিএ পড়েন তিনি। ১৯৮৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ হয় তার।  

শুরুতে সে সময়কার জনপ্রিয় ‘সাপ্তাহিক সাংবাদিক’ ও ‘সচিত্র সন্ধানী’তে কিছুদিন রিপোর্টার হিসেবে কাজ করলেও স্বদেশ রায়ের তীক্ষ্ণ কলমের প্রকৃত ধীশক্তি ফুটে ওঠে যায় যায় দিনে। আলোড়িত-আলোচিত সাপ্তাহিক কাগজটিতে তার জনপ্রিয় সংবাদ-প্রতিবেদন, কলাম এবং সম্পাদকীয় নিবন্ধগুলো সে সময় ভিত কাঁপিয়ে দেয় স্বৈরাচার ও তাদের দোসর স্বার্থান্বেষী মুক্তবুদ্ধিবিরোধী বিভিন্ন মহলের।

এরপর দৈনিক রূপালী ও দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায়ও কাজ করেছেন এখনকার দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

সুদীর্ঘ এ সাংবাদিকতা জীবনের সব ধাপেই বিরুদ্ধ সময়ে দাঁড়িয়ে তার সাহসী উচ্চারণ সাধারণের মনে আশা জাগিয়েছে। তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, দিক নির্দেশনা, সমাজ চিন্তা, সংস্কৃতির বোধ ও গবেষণা পাঠককে মুগ্ধ করে রাখে।

Tuesday, February 21, 2017

পাইকগাছায় খবরের কাগজ যিনি দেন তিনিই এখন শিরোনাম

কোনো রকম যান্ত্রিক সুবিধা ছাড়াই অল্প সময়ে বেশি সংখ্যক পাঠকের হাতে সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়ার রেওয়াজটা পাইকগাছার নিউজ এক্সপ্রেস খ্যাত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোমিন গাইনের (৬৩)। তিনি খবরের কাগজ পরিবেশন করেন, অথচ আজ ভাগ্যচক্রে তিনিই খবরের শিরোনাম হয়েছেন। দীর্ঘ রোগ ভোগের শিকার স্ত্রী ভানু বিবির স্বামী মমিন গাইন। প্রতিদিনের পত্রিকা হাতে পাওয়ার আত্মতৃপ্তি এবং চিরচেনা ছাপাখানার ঘ্রাণটি লম্বা শ্বাসে গ্রহণ করে ছুটে চলা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার।

পাইকগাছার কপিলমুনি গ্রামের আনছার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান গাইনের বড় ছেলে আঃ মমিন হকার বলেন, ‘জীবিকার প্রয়োজনে ১৯৯২ সাল হতে সংবাদপত্রের পেশায় জড়িত’। তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদপত্র পেশা হিসাবে নিলেও এটি একটি বড় দায়িত্ব বলে মনে করি। এখন বয়স হয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে; তাই এখন আর পারি না সবার সঙ্গে ছুটে চলতে। কিডনি লিভারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিত্সা করাতে পারি না পয়সার অভাবে। আমি আগের মত ছুটতে চাই। চিকিত্সার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা বড় প্রয়োজন।’
না হলে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে হকার মমিন গাইনকে। সে খুলনা জেলা হকার্স ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত। তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য কামনা করেছেন তার স্ত্রী ভানু বিবি।
সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা :: সাইমন গাইন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, কপিলমুনি, পাইকগাছা শাখা :: ২০৪-১২২-১১৯।