Sunday, July 23, 2017

পাইকগাছায় এইচএসসিতে গড় পাশের হার ৬৭.২৬%, 'এ' প্লাস ২৩

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীন পাইকগাছা উপজেলার ১১টি কলেজে এবছর গড় পাশের হার ৬৭.২৬% (গতবার এ হার ছিল ৮৫.৬৭%)। এবছর উপজেলায় সর্বোচ্চ পাশের হার আর.কে.বি.কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েটে ৮৮.৩% এবং সর্বনিম্ন পাশের হার সরদার আবু হোসেন কলেজে ৪৪.৪৪%।
এছাড়া শহীদ আয়ুব ও মূসা মোমারিয়াল কলেজে পাশের হার ৮১.৩%, কালীনগর কলেজ ৮১.০৮%, চাঁদখালী কলেজে ৭৯.৩১%, কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির ৭২.২২%, হরিঢালী কপিলমুনি মহিলা কলেজ ৬৯.৬৪%, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ ৫৮.৬৬%, লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট ৫৮.১২%, পাইকগাছা কলেজ ৫৩.৪৩% এবং কপিলমুনি কলেজ ৫৩.৩৯%।
পাইকগাছা উপজেলার ১১টি কলেজের মধ্যে ৫টি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ ('এ' প্লাস) পেয়েছে ২৩ জন। আর.কে.বি.কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট থেকে ৮ জন, কপিলমুনি কলেজ থেকে ৮ জন, পাইকগাছা কলেজ থেকে ৩ জন, লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট থেকে ৩ জন এবং চাঁদখালী কলেজ থেকে ১ জন 'এ' প্লাস পেয়েছে।

এদিকে ফলাফল ঘোষণার পর রাড়ুলী, গড়ইখালীসহ কিছুকিছু কেন্দ্রের চমকপ্রদ ফলাফল দেখে বিষ্মিত হয়েছেন সচেতন মহল। অনেকের ধারনা এ কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার সময় ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার কারনে প্রতিবারের ন্যয় এবারও সদরের কলেজগুলো থেকে প্রত্যন্ত এলাকার ওইসব কেন্দ্রে চমকপ্রদ ফলাফল এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ সব কেন্দ্রের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিবে। একই সাথে জিপিএ ৫ এর প্রলোভনে সদরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামীতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চাইবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বোর্ড চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকমহল। 
উল্লেখ্য, প্রতিবার পরীক্ষার সময় প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
বিস্তারিত ফলাফল ::
►পাইকগাছা কলেজ ::
পাশের হার :: ৫৩.৪৩%, মোট পরীক্ষার্থী :: ২৭৭, কৃতকার্য :: ১৪৮, অকৃতকার্য :: ১২৯
A+: ৩, A: ১০, A-: ‌২৬, B: ৪৮, C: ৫৯, D: ২
►কপিলমুনি কলেজ ::
পাশের হার :: ৫৩.৩৯%, মোট পরীক্ষার্থী :: ৩৫৪, কৃতকার্য :: ১৮৯, অকৃতকার্য :: ১৬৫
A+: ৮, A: ৩৭, A-: ‌৪৭, B: ৫৭, C: ৩৯, D: ১
►আর.কে.বি.কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট ::
পাশের হার :: ৮৮.৩%, মোট পরীক্ষার্থী :: ২৬৫, কৃতকার্য :: ২৩৪, অকৃতকার্য :: ৩১
A+: ৮, A: ১১০, A-: ‌৫৩, B: ৩৪, C: ২৯, D: ০
►শহীদ আয়ুব ও মূসা মোমারিয়াল কলেজ ::
পাশের হার :: ৮১.৩%, মোট পরীক্ষার্থী :: ২৪৬, কৃতকার্য :: ২০০, অকৃতকার্য :: ৪৬
A+: ০, A: ২১, A-: ৫৮, B: ৭৩, C: ৪৬, D: ২
►ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ ::
পাশের হার :: ৫৮.৬৬%, মোট পরীক্ষার্থী :: ১৭৯, কৃতকার্য :: ১০৫, অকৃতকার্য :: ৭৪
A+: ০, A: ৩২, A-: ‌২৮, B: ২৬, C: ১৭, D: ২
►লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট ::
পাশের হার :: ৫৮.১২%, মোট পরীক্ষার্থী :: ১৬০, কৃতকার্য :: ৯৩, অকৃতকার্য :: ৬৭
A+: ৩, A: ২৪, A-: ‌২২, B: ২৭, C: ১৬, D: ১
►কালীনগর কলেজ ::
পাশের হার :: ৮১.০৮%, মোট পরীক্ষার্থী :: ৭৪, কৃতকার্য :: ৬০, অকৃতকার্য :: ১৪
A+: ০, A: ১০, A-: ‌১৯, B: ১৯, C: ১২, D: ০
►চাঁদখালী কলেজ ::
পাশের হার :: ৭৯.৩১%, মোট পরীক্ষার্থী :: ৫৮, কৃতকার্য :: ৪৬, অকৃতকার্য :: ১২
A+: ১, A: ১৫, A-: ‌১৭, B: ১১, C: ২, D: ০
►হরিঢালী কপিলমুনি মহিলা কলেজ ::
পাশের হার :: ৬৯.৬৪%, মোট পরীক্ষার্থী :: ৫৬, কৃতকার্য :: ৩৯, অকৃতকার্য :: ১৭
A+: ০, A: ১৪, A-: ‌৯, B: ৯, C: ৭, D: ০
►কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির ::
পাশের হার :: ৭২.২২%, মোট পরীক্ষার্থী :: ৩৬, কৃতকার্য :: ২৬, অকৃতকার্য :: ১০
A+: ০, A: ২, A-: ‌৫, B: ১৩, C: ৬, D: ০
►সরদার আবু হোসেন কলেজ ::
পাশের হার :: ৪৪.৪৪%, মোট পরীক্ষার্থী :: ১৮, কৃতকার্য :: ৮, অকৃতকার্য :: ১০
A+: ০, A: ০, A-: ‌৪, B: ১, C: ৩, D: ০

Friday, July 21, 2017

পাইকগাছার সন্তান উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন জনপ্রশাসন পদকের জন্য মনোনীত

পাইকগাছা উপজেলার কৃতি সন্তান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কন্যা উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন মালা জনপ্রশাসন পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে জনসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জেলা পর্যায়ে সাধারণ (দলগত) ক্যাটাগরিতে জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ এর জন্য সাবিনাকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে। 
সাবিনা ইয়াসমিন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) থাকাকালীন সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সহ আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষে ‘অপরাজিতা যশোর’ নামে একটি প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। যশোর জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির এ প্রকল্পের দলনেতা ছিলেন। তবে প্রকল্পের মুল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাবিনা ইয়াসমিন। প্রকল্পটি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনী সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশে বিদেশে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। গৌরবময় এ অর্জনের জন্য ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান গত সোমবার সাবিনা ইয়াসমিনের জনপ্রশাসন পদকের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পত্র দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাবিনা ইয়াসমিন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সরল গ্রামের শহীদ শেখ মাহতাব উদ্দীন মনি (সাবেক চেয়ারম্যান) মিয়ার মেয়ে। সাবিনা মা সালমা বেগম এর গর্ভে থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে শহীদ হন তার পিতা শেখ মাহতাব উদ্দীন মনি মিয়া। তিনি ১৯৮৭ সালে পাইকগাছা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেধা তালিকায় এসএসসি, ৮৯’তে পাইকগাছা কলেজ থেকে এইচএসসি, ৯২’তে বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও ৯৩’ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ (ইংরেজি) পাস করেন। 
লেখাপড়া শেষ করে তিনি ৯৮ থেকে ০৩ পর্যন্ত পাইকগাছার ফসিয়ার রহমান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ইংরেজি প্রভাষক হিসাবে চাকরি করেন। এখানে কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২১তম বিসিএসএ উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার (ম্যাজিষ্ট্রেট) হিসাবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এ পদে তিনি ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর কর্মরত থাকার পর ’০৭ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসাবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী, ময়মনসিংহ সদর এবং ’০৯ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে গাজীপুরের শেরপুর, গাজীপুর সদর, ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ কর্মরত ছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর’১৩ হতে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসাবে যশোরে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের লক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে পিএইচডি করছেন। তার গবেষণার বিষয় পাবলিক হেল্থ সার্ভিস ডেলিভারী সিষ্টেম ইনদি কমিউনিটি হেল্থ অব বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে তিনি এমআইডি ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের আওতায় ভারত সফর করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে (শিক্ষা ও চাকুরী) ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ জয়ীতা নির্বাচিত হন। 
শ্রেষ্ঠ এ জয়িতার লেখক হিসাবে রয়েছে একটা পরিচিতি। ইতোমধ্যে তাহার রচিত লোভ দেখালেও জুঁই-চন্দন, বলিতে ব্যাকুল, পূর্ণিমার পরদিন, জলে জ্যোৎস্নায় এই অবেলায়, নি:শ্বরের গান, তমোঘœা, ফেরাবো অঙ্কুশে, তোমার জ্যোৎস্নায় পালক পুড়ে যায়,  নীল ঝোনাকী ও ধারা জল সহ ১০টি কাব্যগ্রস্থ প্রকাশিত হয়েছে। 
ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী মো. শরীফ হোসেন হায়দার বিচার বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। পুত্র রূবাইয়াৎ ইশম্মাম প্রিয়ন্ত ও কন্যা পুষ্পিতা পরিজাত টিপ'কে নিয়ে সুখেই রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। 
সর্বশেষ জনপ্রশাসন পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় এবং সাফল্য অর্জন প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রগতিশীল দলনেতা জেলা প্রশাসকের সঠিক দিক-নির্দেশনায় অপরাজিতা যশোর প্রকল্পে সাফল্য এসেছে। গৌরবময় এ অর্জনের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা জজ, জেলা নারী ও শিশু জজ, জেলা প্রশাসকের  সহধর্মিনী, অপরাজিতা প্রকল্পের সকল সহকর্মীসহ সুশীল সমাজের সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পাইকগাছায় দুই চিংড়ি ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পাইকগাছায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি পরিবহন করার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে ফরমালিন বিরোধী ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস শিবসা ব্রীজ এলাকা থেকে পানি ভর্তি ড্রামে চিংড়ি পরিবহন করার সময় ৬০ কেজি পরিমাণের চিংড়ি মাছ জব্দ করেন।
পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান ব্যবসায়ী পারবয়ারঝাপা গ্রামের লতিফ গাজীর ছেলে কারিমুল গাজী (২৫) ও একই এলাকার রুহুল আমিন ফকিরের ছেলে শাহাবুদ্দীন ফকির (৩০) কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও অপদ্রব্য পুশ করা প্রায় ২শ কেজি চিংড়ি বিনষ্ট করেন মৎস্য দপ্তর কর্তৃপক্ষ।