Wednesday, December 20, 2017

প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত দম্পতি

পাইকগাছায় মন্দিরের জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক দম্পতি গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে।


মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গদাইপুর রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম মন্দিরের সম্পত্তি ও মন্দিরে জমিদাতা মৃত রণজিৎ ঘোষের ছেলে নারায়ন চন্দ্র ঘোষের সাথে প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত মনিন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার কিছু দিন পূর্বে প্রতিপক্ষরা মন্দিরের সামনে বাথরুম তৈরী করার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষদের সাথে মন্দির কমিটি ও নারায়ণ ঘোষের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গত শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষরা নারায়ণ ঘোষের সম্পত্তির ঘেরা-বেড়া ও মন্দিরের আসবাব পত্র ভাংচুর করতে থাকলে এ সময় বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন নারায়ণ ঘোষ (৫৫) ও তার স্ত্রী বীথিকা ঘোষকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের মধ্যে বীথিকা ঘোষের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বীথিকার মাথার ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস সহ ৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। যার নং-১৯, তাং-১৬/১২/১৭ ইং।

বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর

সাতক্ষীরায় মোবাইল ফোন কিনতে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না পাইকগাছার দুই বন্ধুর। একজনের ঠিকানা হয়েছে পরপারে। আরেকজনের হাসপাতালে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরার ভোমরায় মালবাহী ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন উজ্জ্বল সরদার (৩০)। আর গুরুতর আহত হন বন্ধু কাউন্সিলর রবি শংকর মন্ডল (৩০)।

উজ্জ্বল সরদার ও রবি শংকর মন্ডল
সূত্র জানায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার কাউন্সিলর রবি শংকর তার দোকানের মোবাইল ফোন কিনতে বন্ধু পাইকগাছা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি উজ্জ্বল সরদারকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সাতক্ষীরার ভোমরায় যান। সন্ধ্যার পর ভোমরার একটি চায়ের দোকানের সামনে মোটরসাইকেলটি রেখে তারা দু'জনই চা পান করছিলেন। এমন সময় একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা বাস্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই উজ্জ্বলের মৃত্যু হয় এবং কাউন্সিলর রবি শংকরের হাত-পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়। আহত রবিকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতালে আহত রবি শংকর মন্ডল
রবি শংকর পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সরল গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ মন্ডলের ছেলে এবং উজ্জ্বল সরদার ৯নং ওয়ার্ডের বাতিখালী গ্রামের অনাথ বন্ধু সরদারের ছেলে। মৃত্যুর খবরে উজ্জ্বলের পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন রবির পরিবার।

নিহত উজ্জ্বল সরদার
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উজ্জ্বলের মৃতদেহ সাতক্ষীরা থেকে বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া চলছিল। 

অপরদিকে, গুরুতর আহত কাউন্সিলর রবিকে দেখতে মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পৌর পরিষদের সদস্যবৃন্দ অবস্থান করছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আরও পড়ুন :: ভোমরায় ট্রাক চাপায় নিহত পাইকগাছার উজ্জ্বল; আহত কাউন্সিলর রবি

Tuesday, December 19, 2017

পাইকগাছায় ৬ ডাক্তারের কাছে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নামে চাঁদা দাবি

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ ডাক্তারের কাছে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে জনৈক বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি চাঁদার দাবি করেছে। মোবাইল ফোনে চাঁদার দাবি করে নানা রকমের ভয় ভীতিও দেখানো হয়েছে ডাক্তারদের। এ ঘটনার পর থেকে ডাক্তার পাড়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ থানায় জিডি করেছেন।


সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ২টার দিকে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে জনৈক বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে ফোন করে। সে সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খুলনায় মাসিক সভায় অবস্থান করছিলেন। ফোনে জনৈক বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি বলে, তার বসের সাথে কথা বলতে।

পরবর্তিতে তার বস পরিচয়ের ব্যক্তি বলে, তাদের দলের অনেক সদস্য বর্তমানে অসুস্থ, তাদের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার। সে কারনে ডাক্তারদের কাছে সহযোগীতা চাচ্ছে। যদি তাদেরকে টাকা না দেওয়া হয় তাহলে পরিবারের সদস্যদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে নানান হুমকি দেওয়া হয়।

সভা শেষে নিজ কর্মস্থল পাইকগাছায় এসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানতে পারেন কপিলমুনি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুর রব এর নিকট বেলা ১টা ৫৭ মিনিটে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিঠুন দেবনাথ এর নিকট বেলা ২টার দিকে, ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল এর কাছে বেলা ২টা ১ মিনিটের দিকে, ডাঃ প্রশান্ত কুমার মন্ডল এর কাছে বেলা ২টা ৩ মিনিটের দিকে এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুজন কুমার সরকারের কাছে বেলা ২টা ৬ মিনিটের দিকে একই নম্বর দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে একই কথা বলে চাঁদা এবং তাদের চাঁদার টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হবে বলে নানান হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর থেকে ডাক্তার পাড়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকে উক্ত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

চাঁদা দাবি, হুমকি এবং ডাক্তরদের আতঙ্কের বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ সিভিল সার্জনকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। রাতেই এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ ও অন্যান্য ডাক্তারবৃন্দ উক্ত ফোন নম্বর উল্লেখ করে পাইকগাছা থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন।

থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানিয়েছেন, বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাক্তারদের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টি পাইকগাছার টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।