Monday, April 7, 2014

পাইকগাছার বোয়ালিয়ায় ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে নেরিকা ১০ জাতের মিউটেশন ও উচ্চ ফলনশীল কুদরত (নেরিকা মিউট্যাণ্ট) ধানের আশানুরুপ ফলন হয়েছে। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কুদরতের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারটি উপকূল এলকার লবনাক্ত অঞ্চল তথা কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত। বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে লবনের মাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় বোরোর আবাদ সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। উপকূল এলাকায় চাষাবাদ প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালো থাকায় বোরোর আবাদ ভালো হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে খামারে ২৫ একর বিনা-৮, ১৫ একর ব্রি-৪৭ ও নেরিকা মিউট্যাণ্ট ১ একর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। খামারে আবাদকৃত বিনা-৮, ব্রি-৪৭ জাতের ধান থেকেও মিউট্যাণ্ট নেরিকার ফলন ভালো লক্ষ করা যাচ্ছে। নেরিকা মিউট্যাণ্ট ২১ দিনের চারা রোপন করা হয়। সারি করে চারা রোপন করা হয়েছে।

জমির উর্বরতা ভেদে এবং কৃষি পরিবেশের উপর ভিত্তি করে চাষ শেষে একর প্রতি ৪০ কেজি টিএসপি, ৩৫ কেজি এমওপি, ২৫ কেজি জীপসাম, ৫ কেজি দস্তা ও ৩ কেজি বোরণ প্রয়োগ করা হয়। চারা রোপনের ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৫ কেজি ইউরিয়া ও ১৫ কেজি জীপসাম প্রয়োগ করা হয়। চারা রোপনের ২৫ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ৪০ কেজি ইউরিয়া ও ২০ কেজি টিসেপি প্রয়োগ করা হয়। চারা রোপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তৃতীয় ধাপে একর প্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া ও ১৫ কেজি এমওপি প্রয়োগ করা হয়।

তবে গাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষন করে এবং লিফ কালার চার্ড ব্যবহার করে ইউরিয়ার ধাপ প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়। নেরিকা জাতের ধানের ফসল ৯০ দিনের মধ্যে কেটে ঘরে তোলা যায়। হেক্টর প্রতি ৬ থেকে সাড়ে ৬ টন ফলন পাওয়া যায়। সব মৌসুমে এ জাতের ধান চাষাবাদ করা যায়। উপকূল এলাকায় লবনাক্ত মাটিতে নেরিকার আবাদ ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা নেরিকা মিউট্যাণ্ট চাষে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে সিনিয়র সহকারী পরিচালক কে,এম আবুল কালাম জানান, খামারে কুদরত (নেরিকা মিউট্যাণ্ট) ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। খামারে আবাদকৃত ব্রি-৪৭ ও বিনা-৮ জাতের ধান থেকে কুদরতের ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হলে কুদরতের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

পাইকগাছায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত মাদ্রাসা ছাত্রের অবস্থা আশংকাজনক

পাইকগাছায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত মাদ্রাসা ছাত্রের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। গত কয়েকদিন যাবৎ সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার এলাকার পবিত্র মন্ডল নামে দুর্বৃত্ত ফোন করে বাতিখালী এলাকার মহিরউদ্দিন সানার পুত্র মাদ্রাসা ছাত্র শামসুল হককে ডেকে নিয়ে পূর্ব ওয়াপদা সড়কের এক গলিতে ফেলে বেদম মারপিট ও প্রাচীরের ওয়ালে মাথায় আঘাত করলে মাদ্রাসা ছাত্র শামসুল মারাত্মক জখম হয়।

পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক বলে বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান।

পাইকগাছা থানার ওসি এম. মশিউর রহমানকে বদলী

পাইকগাছা থানার আলোচিত ওসি এম. মশিউর রহমানকে বদলী করা হয়েছে। তিনি সোমবার রাত ৮টায় সদ্য যোগদানকৃত ওসি (তদন্ত) কাজী কামাল হোসেনের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে ডুমুরিয়া থানায় যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য, এম. মশিউর রহমান গত ৫-০৭-২০১৩ তারিখে ওসি হিসেবে পাইকগাছা থানায় যোগদান করার পর থেকে বেশ কয়েকজর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, পাচারকারী ও জামাত-বিএনপি’র অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করার মাধ্যমে আলোচিত হয়ে উঠেন।

অবশেষে তাকে বদলী করায় তার স্থলাভিষিক্ত হলেন মাগুরা থানার সাবেক ওসি (তদন্ত) কাজী কামাল হোসেনে।