Saturday, May 3, 2014

দাকোপে ঝড়ের কবলে লঞ্চ; অল্পের জন্য রক্ষা পেল শতাধিক যাত্রী

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের শিল্পী রায় মারাত্মক ভাবে জখম 

 

ঝড়ের কবলে পড়া লঞ্চটির সারেং এর বুদ্ধিমত্তায় অল্পের জন্য রক্ষাপেল শতাধিক যাত্রী। লঞ্চ ডুবির আশংকায় যাত্রীদের মধ্য বেশ কয়েক জন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ ও এক শিশুর সন্ধান মেলেনি।

নদী সাঁতরিয়ে তীরে উঠে আশা কয়েকজন যাত্রী ও কামিনি বাসিয়া পুলিশ ফাঁড়ি সুত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকালে খুলনা থেকে দাকোপ ভায়া-কয়রা উপজেলার কুড়িকাউনি এলাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে আশা (এম ভি আরিফ) নামক লঞ্চটি দুপুর দেড়টায় দাকোপ উপজেলার কালিবাড়ি লঞ্চঘাট ছেড়ে তার তৎসংলগ্ন এলাকায় পৌছালে তখন প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি।

এ সময় লঞ্চটি ঢাকী নদীর প্রবল জোয়ার ও ঝড়ের তোড়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। ঐ সময় লঞ্চের ভিতরে থাকা যাত্রীরা ভয়ে আতংক গ্রস্থ হয়ে লঞ্চের ভিতরে ছুটাছুটি শুরু করেন। যাত্রীদের এ অবস্থায় লঞ্চটি এক পাশে হেলে পড়লে তখন জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া অনেক যাত্রীরা নদী সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ ও এক শিশুর সন্ধান এখনো মেলেনি।

এ দিকে লঞ্চের ভিতরে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের রক্ষার্থে লঞ্চটির সারেং (ড্রাইভার) মতি তার বুদ্ধিমত্তায় দ্রুত লঞ্চটি ঢাকী নদীর শাখ খালের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেন। ঝড় থেমে গেলে দুপুর আড়াইটার দিকে আবারও লঞ্চটি তড়িঘড়ি করে কুড়িকাউনির উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।

এ দিকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারাত্মক ভাবে জখম হওয়া পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী গ্রামের চন্দন রায়ের স্ত্রী শিল্পী রায়’কে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নদী সাঁতরিয়ে তীরে উঠে আসা যাত্রী বিমল, আনোয়ারুল, তৈয়বুর জানান, ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লঞ্চের সারেং (ড্রাইভার) ও টিকিট মাষ্টারকে কালিবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি না ছাড়ার জন্য বলা হলেও তারা আমাদের কোন কথা রাখেনি। অপর দিকে চালনা লঞ্চঘাটের টোল আদায়কারী টুলু জানান, এম ভি আরিফ নামক লঞ্চটি প্রায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে সকাল ১১টায় এ ঘাট থেকে কয়রার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।

পাইকগাছায় দু’দফা কালবৈশাখী ঝড়ে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

পাইকগাছায় দু’দফা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। শুক্রবার রাত ১০টা ও শনিবার দুপুর ১টার দু’দফা ঝড়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারাদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বৃষ্টিসহ শুরু হয় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়। ঝড় এবং বৃষ্টি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হলেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আগেই শনিবার দুপুরে দ্বিতীয় দফায় আঘাত হানে বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড়।

প্রবল বৃষ্টিপাতে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় ডোবানালাসহ ফসলের ক্ষেত। এতে ফলন্ত বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু পানি জমে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে যাতায়াত ব্যাবস্থা। অপরদিকে পৌরসদরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে পৌরবাসী।

দিন শেষে অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম। বিশেষ করে অনার্স ১ম বর্ষের ২য় রিলিজের ভর্তির শেষ দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

Voice of Paikgacha'র পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে, "বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগতে পারে ?" -এমন পশ্নের জবাবে কোন সময় জানাতে পরেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। শুধু এটুকু জানান যে, আজ রাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

রাড়ুলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু

গত বৃহস্পতিবার রাড়ুলীর ভবানীপুরস্থ সন্নাসী পালের আড়তের সামনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় লুৎফর রহমান (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

এ সময় আহত হয়েছে আরাজী ভবানীপুরের ফকোর ছেলে মোটরসাইকেল চালক রউফ (২৫)। তাকে আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।