Saturday, November 15, 2014

মাছ ধরার টোপ হিসেবে নালসো পিঁপড়ার ডিম ও বাচ্চা ব্যবহার করায় জীববৈচিত্র হুমকির মুখে

পাইকগাছাসহ উপকূল অঞ্চলের বিভিন্ন বাগান থেকে নালসো পিঁপড়ার বাসা ভেঙে ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করায় নালসোর বংশ বিস্তার যেমন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। সৌখিন মাছ শিকারী বা মাছ শিকারীদের কাছে নালসোর ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছ ধরার টোপ হিসাবে যে কোন উপাদান থেকে নালসোর ডিম খুব উত্তম। নালসোর ডিমের টোপ বা চারে মাছ দ্রুত এসে ধরে। এ কারণে মাছ শিকারীদের কাছে নালসোর ডিমের চাহিদা থাকায় এলাকার বিভিন্ন বাগান থেকে নালসোর ডিম সংগ্রহ চলছে। সংগ্রহকারীরা নালসোর ডিম সাতক্ষীরা ও যশোরে প্রতিকেজী ৫০০  টাকা পাইকারী দরে বিক্রি করছে। সংগৃহীত ডিম ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় মৎস শিকারীদের কাছে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। 

নালসো পিঁপড়া বাগানে বিভিন্ন গাছের পাতা মোড়াইয়ে বাসা তৈরি করে। গাছের পাতা দিয়ে বাসা তৈরির সময় নালসো তাদের লালা দিয়ে পাতার সঙ্গে পাতা মুড়িয়ে গোল বাসা তৈরি করে। পাতার সঙ্গে পাতা মোড়ানো নালসোর লালা টিসুপেপারের মত দেখা যায়। বাসার ভিতরে বিভিন্ন ধাপে ধাপে লালা দিয়ে বাসার ভিতরে কুটরি তৈরি করে।

নালসোর ডিম খুব ছোট থেকে বড় বড় মুড়ির মত তৈরি হওয়ার পর বাচ্চায় পরিণত হয়। ধপধপে সাদা বাচ্চাগুলি হাত পা সহ যেন ঘুমানো অবস্থায় দেখা যায়। ডিম সংগ্রহকারীরা এক একটি বাসা ভেঙে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ডিম ও বাচ্চা পায়। ডিম সংগ্রহকারীরা লম্বা বাঁশের মাথায় কাপড় গোল পাত্র তৈরি করে বাসা ভেঙে ডিম সংগ্রহ করে। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন বাগান থেকে বাসা ভেঙে ৪/৫ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারে বলে জানা গেছে। 

ডিম সংগ্রহকারী সাতক্ষীরা জেলার বুধহাটা গ্রামের রহিম সরদার, ধুলিয়ারের করিম মোড়ল জানায়, তারা প্রতিদিন পাইকগাছা সহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে ডিম সংগ্রহ করে সাতক্ষীরায় নিয়ে পাইকারী বিক্রি করে আসে। এই ডিম যশোর ও ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। সেখানে ডিমের প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানায়। শীত শুরু হলে নালসোর ডিম পাওয়া না যাওয়ায় তারা প্রতিদিন বিভিন্নবাগান থেকে ডিম সংগ্রহ করছে।

নালসো পিঁপড়া বাগানের বিভিন্ন গাছে গাছে দেখা যায়। তারা গাছের পাতা মুড়িয়ে বাসা করে বসবাস করে। নালসো কোন উপকারে না আসলেও তেমন কোন ক্ষতি করে না। তবে বিভিন্ন ফলের মুকুল বা কচি পাতা মুড়িয়ে তারা পোকামাকড় ধরে খায়। 


এলাকার বিভিন্ন বাগান থেকে নালসো পিঁপড়ার বাসা ভেঙে ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করায় নালসোর বংশ বিস্তার মারাত্বকভাবে ব্যহত হচ্ছে ও পাশাপাশি জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে নালসোর বাসা ভেঙে ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করলে জীববৈচিত্র থেকে এক সময় নালসো পিঁপড়া হারিয়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে।

Friday, November 14, 2014

পাইকগাছায় ডায়াবেটিসে ভুগছে ৩০ হাজার মানুষ

রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনায় ভূমিকা রাখছে ডায়াবেটিস সেন্টার


পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে উপজেলায় নিরব এ ঘাতকে ভুগছে ৩০ হাজার মানুষ। জটিল এ রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাইকগাছা ডায়াবেটিস সেন্টার। আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে পাইকগাছা ডায়াবেটিস সেন্টারের পক্ষ থেকে র‌্যালী, সেমিনার, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ আয়োজন করা হয়েছে নানান কর্মসূচী। 

পাইকগাছায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিস আক্রান্ত !




বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস একটি নিরব ঘাতক। যার কারণে হৃদরোগ, ব্রেণ স্ট্রোক, কিডনী রোগ, পায়ে পচন ধরা, চোখের অসুখ ও যৌণ ক্ষমতা কমে যাওয়া বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ হাজার মানুষ নিরব এ ঘাতকে আক্রান্ত।

এক সময় সচেতনার অভাবে এ রোগ পুশে রাখত অধিকাংরাই। নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ত আক্রান্তকারীরা। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে কেউ যাতে মৃত্যুবরণ না করে এ লক্ষ্যেই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাঃ শেখ শহীদউল্লাহ ২০১৩ সালে উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন পাইকগাছা ডায়াবেটিস সেন্টার। সেন্টারটিতে গত ১ বছরে নিয়মিত রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪০০ এবং অনিয়মিত রোগীর সংখ্যা হাজারেরও অধিক বলে জানিয়েছেন সেন্টার ইনচার্জ শেখ সেলিম।

সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডাঃ মোহাঃ শেখ শহীদুল্লাহ জানান, ডায়াবেটিস একটি নিরব ঘাতক। খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ থেকে মিঃ মোল/লিঃ থেকে ৭.০ মিঃ মোল/লিঃ এবং খাওয়ার পর ৭.৮ থেকে মিঃ মোল/লিঃ থেকে ১১.০০ মিঃ মোল/লিঃ এর বেশী হলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, যে সকল মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করেন না অপেক্ষাকৃত বেশী ওজনধারী, অপরিমিত খাবার খান, নিয়মিত ধুমপান করেন, বংশে ডায়াবেটিস আছে এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন তাদের ডায়াবেটিস জনিত অসুখের পরিমাণ বেশী হয়। ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিস জনিত জটিলতায় প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যায় বলে তিনি জানান।

ডায়াবেটিস সেন্টারের মাধ্যমে গত ১ বছরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় মানুষ এ রোগ পুশে রাখত। বর্তমানে বছরে একবার হলেও এলাকার মানুষ ডায়াবেটিস পরীক্ষা করেন। পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে ব্যায়াম বা হাটা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানান।

আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ ১৪ নভেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০১৪। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘প্রাতঃরাশেই শুরু স্বাস্থ্যকর খাদ্যের’। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। আর বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হল বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস সম্পর্কে বিশ্বময় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ক্যাম্পেইন, যা প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায়,বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯১ সালে ১৪ নভেম্বরকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এদিন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং জন্ম নিয়েছিলেন এবং তিনি বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টের সঙ্গে একত্রে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।

২০০৭ সালে সিদ্ধান্ত হয়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার থিমটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০০৭-০৮ এর থিম নির্ধারিত ছিল ‘শিশু ও তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস’। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের থিম নির্ধারিত হয়েছে, ‘ডায়াবেটিস শিক্ষা ও প্রতিরোধ’।

এ দিবসের নীল বৃত্তের ‘লোগো’টি ডায়াবেটিসকে পরাভূত করার জন্য বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের সূচক। লক্ষ্য হলো, পৃথিবীতে কোনো শিশুই যেন ডায়াবেটিসে মারা না যায়। ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ ব্যক্তি, পরিবার, দেশ, এমনকি সারা পৃথিবীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি বহন করে -এমন সত্যটি জাতিসংঘ অনুধাবন করে ২০০৬ সালে একে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পৃথিবীতে ২৫০ মিলিয়ন লোক ডায়াবেটিস নিয়ে জীবন যাপন করছে।