Monday, December 19, 2016

পাইকগাছা সরঃ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী ৩১ ডিসেম্বর

ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখ (২৩ ডিসেম্বর) পরিবর্তন করে ৩১ ডিসেম্বর পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকালীন ছুটির কারণে নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রথম বারের মতো পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শনিবার বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে। পাইকগাছা পৌরসভাস্থ বিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে ১৯৭৮ থেকে ২০১৬ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠান বিষয়ক তথ্য ও রেজিস্ট্রেশন জন্য ০১৭৭৮-৪৫৪২৬০ নাম্বারে ফোন করে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। (রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ২৪ ডিসেম্বর)

১৯৭৮ থেকে ২০০০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার টাকা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শিক্ষার্থীদের ৮০০ টাকা এবং ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের শিক্ষার্থীদের ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আযোজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ৩ শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সমাগম ঘটবে। দিনব্যাপী থাকবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন।

Sunday, December 18, 2016

পাইকগাছার অনির্বাণ লাইব্রেরি পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, মননশীল জাতি গঠনে লাইব্রেরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঙ্গালী সংস্কৃতির চেতনা জাগ্রত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সর্বত্র সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোকিত মানুষ গড়তে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে একটি লাইব্রেরি ২৫ বছর পূর্ণ করেছে এটা সত্যই বিস্ময়কর। যেখানে নতুন প্রজন্ম বই পড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, সেখানে অনির্বাণ লাইব্রেরি তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা, খেলাধুলাসহ সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এভাবেই সারাদেশে লাইব্রেরি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, আর সরকার এসকল বিষয়ে উৎসাহিত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

তিনি রোববার সন্ধ্যায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মামুদকাটীর অনির্বাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লাইব্রেরি চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।



অনির্বাণ লাইব্রেরির সভাপতি সমীরণ দে’র সভাপতিত্বে ও লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গাইবান্ধা ১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ-উল-মোস্তাক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশিদুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান, মনিরামপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার। বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক নিমাই মন্ডল, অধ্যাপক যামিনী সরকার, অধ্যাপক অশোক ঘোষ, অধ্যাপক বিধান ভদ্র, প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, নীলিমা ঢালী, লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দেবনাথ।

এরআগে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনির্বাণ লাইব্রেরির নির্মাণাধীন ভবনের ফলক উম্মোচন করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলা সদর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে পাইকগাছা উপজেলার মামুদকাটী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অনির্বাণ লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। লাইব্রেরিটি ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। গত ৯ অক্টোবর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে লাইব্রেরির রজত জয়ন্তী উদযাপন করা হয়।

Saturday, December 17, 2016

নিজ হাতে পতাকা ধরলেন আবুল বাজনদার

‘নিজের হাত নিজেই চিনতে পারতাম না, হাতের আঙুল দেখা যেতো না। সেই হাতে আজ আমি বাংলাদেশের পতাকা ধরেছি। লাল সবুজের এই পতাকা ধরতে পারাটা যে কতটা সৌভাগ্যের সেটা আমি এখন বুঝতে পারছি। মনের ভেতরে এ এক অদ্ভুত অনুভূতি, যা বোঝানো যাবে না।’ কথাগুলো একদমে বলে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা আবুল বাজনদার খানিকক্ষণ চুপ থাকলেন। শুক্রবার বিজয় দিবসে আলাপকালে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানালেন ‘বৃক্ষমানব’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আবুল বাজনদার। হাসপাতালের বিছানায় বসেই পতাকা হাতে মেয়েকে শেখাচ্ছেন ‘জয় বাংলা’ বলা।

মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়ে আবুল উচ্ছ্বলিত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘খুব ছোটবেলায় যখন আমি স্বাভাবিক ছিলাম তখন এসব দিনগুলোয় পতাকা উড়াতাম। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তো আর ধরতে পারিনি। পতাকা হাতে নিয়ে বুকে জড়ায়ে ধরছি। আমার দেশের পতাকা জড়ায়ে ধরার আনন্দের অনুভূতি বোঝানো সম্ভব না। বিশেষ করে আমার মতো মানুষের।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি খুলনা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন বাজনদার। গত ১০ বছর ধরে তিনি বিরল রোগ এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভ্যারুসিফরমিস-এ আক্রান্ত ছিলেন। হাতে গাছের শেকড়সদৃশ মাংসপিণ্ড তৈরি হয়েছিল তার। এ কারণেই তিনি ‘বৃক্ষমানব’ হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বের তৃতীয় রোগী যিনি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাজনদারের দুই হাতে মোট ১১ বার এবং দুই পায়ে তিনবার অপারেশন হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আবুল বাজনদারের দুই হাতের ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তার পায়ে আরও দু/তিনটি অপারেশন লাগতে পারে। তিনি কঠিন অধ্যায়গুলো পার হয়ে এসেছেন, হাত এবং পায়ের আঙুলগুলো এখন দৃশ্যমান। পায়ে কয়েকটি অপারেশন লাগলেও সেগুলো খুবই মাইনর অপারেশন।’

প্রতিদিনের মতো বিজয় দিবসের আগের দিনও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আবুল বাজনদারকে দেখতে যান তার ঘনিষ্ঠজন কাজী বাহার।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (১৫ ডিসেম্বর) বিকাল থেকেই বাজনদারদের সঙ্গে ছিলাম। সন্ধ্যার পর মনে হলো, দেশকে ভালোবাসা এই মানুষটি এতদিন হাতে পতাকা তুলে নিতে পারেনি। যেহেতু তার দুটি হাতই এখন খুলে দিয়েছেন চিকিৎসকরা, তাই তার জন্য একটি পতাকা কিনে এনে হাতে তুলে দেই। এরপর শহীদ মিনার থেকে পতাকাটি কিনে আবার ওদের কেবিনে যাই।’

বাহার বলেন, ‘আবুল বাজনদারের হাতে যখন পতাকাটি তুলে দেই সেই মুহূর্তের কথা, আবুলের হাসি-কান্না মেশানো মুখভঙ্গি আমি কোনোদিনও ভুলবো না। জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হলো আমার।’

তিনি আরও বলেন, ‘পতাকা হাতে নিয়ে বাজনদারের চোখ ভরা জল ছিল আর মুখে ছিল প্রশস্ত হাসি। শুধু বাবা বাজনদারের জন্যই নয়, তার পৌনে চার বছরের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তাহিরার জন্যও ছোট এক পতাকা নিয়ে গিয়েছেন বাহার। আর সেই পতাকা মেয়ের হাতে দিয়ে বাবা মেয়েকে শেখাচ্ছেন, মা জয় বাংলা বলো।’

বাজনদারের চিকিৎসা করানোর পেছনে যার অন্যতম ভূমিকা রয়েছে সেই প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী আবুল বাজানদারের পতাকা বুজে জড়িয়ে রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ছবির নিচে লিখেছেন, ‘অন্য আরেক বিজয়ের কাছাকাছি! বিজয়ী বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিজয়ের নতুন এক নাম আমাদের আবুল। জয় বাংলা।’