Tuesday, July 18, 2017

ব্যাংকের গাফিলতিতে ফেরত গেছে পাইকগাছার ৯০টি স্কুলের লক্ষাধিক টাকা

পাইকগাছায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গাফিলাতির কারণে ফেরত গিয়েছে ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা। এতে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা।
পুরাইকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপজেলার ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এপ্রিল-জুন মাসের আনুসাঙ্গীক খরচ বাবদ ৩ মাসের ১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকার বিল, শিক্ষা অফিস ও হিসাব রক্ষণ অফিসের মাধ্যমে গত ২১ জুন রূপালী ব্যাংকে দাখিল করা হয়। 
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হিসাবের বিপরীতে বিলের উল্লেখিত টাকা জমা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী হঠাৎ একদিন টাকা উত্তোলন করতে যেয়ে দেখি, হিসাবের বিপরীতে কোন টাকা জমা হয়নি। বরং ৩০ জুনের মধ্যে প্রক্রীয়া সম্পন্ন না করায় বিলের সমুদয় টাকা ফেরত গিয়েছে। 
বিপুল পরিমান টাকা ফেরত যাওয়ায় চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন শিক্ষকরা। এর জন্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকরা। 
এ প্রসঙ্গে রূপালী ব্যাংক পাইকগাছা শাখার বিল অফিসার আবু মুছা জানান, বিলটি দুই বার সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়। কিন্তু বিলে ভুল থাকার কারণে তা তারা ফেরত পাঠায়। পরে ওই বিলটি ফাইলের নিচে চাপা পড়ে যায়। 
ব্যবস্থাপক মোঃ হারুণ-অর-রশীদ জানান, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তবে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা আন্তরিক ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিস, হিসাব রক্ষণ অফিস সহ শিক্ষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। নতুন করে আবেদন সাপেক্ষে পুনরায় উল্লেখিত টাকা পাওয়া সম্ভব বলে ব্যাংকের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 
তবে যে টাকা ফেরত গিয়েছে এই টাকা কোন ভাবেই ফেরত পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, গাফিলাতি যাদের থাকুক, বিপুল পরিমাণ টাকার ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?

Friday, July 14, 2017

পাইকগাছায় পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হলেন এমপি পত্নী মোমেনা হক

সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হকের সহধর্মিনী বেগম মোমেনা হকের জানাযা শেষে নিজ গ্রাম পুরাইকাটিস্থ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে পুরাইকাটি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী, কয়রার উপজেলা চেয়ারম্যান মাওঃ আ.খ.ম. তমিজউদ্দীন, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান, ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, কয়রা’র ওসি এনামুল হক, এমপিপুত্র শেখ মনিরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ  কামরুল হাসান টিপু, আব্দুল মান্নান গাজী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, ওসি (তদন্ত) এস.এম. জাবীদ হাসান, আ’লীগনেতা অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী, আনোয়ার ইকবাল মন্টু, হেদায়েত আলী টুকু, উপাধ্যক্ষ আফছার আলী, আবুল বাশার বাবুল সরদার, সরদার গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ শেখ কামাল হোসেন, কয়রার ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ আব্দুর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, কাওসার আলী জোয়াদ্দার, গাজী জুনায়েদুর রহমান, আমির আলী গাইন, এস.এম. শফিকুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজী, কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু, এ্যাডঃ জি,এ সবুর, জি.এম. আব্দুস সাত্তার, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ বাহার, শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, এস,এম, সামছুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, গাজী আজিজুল হক, মাওঃ আফছারুদ্দীন ফিরোজী, উপাধ্যক্ষ সরদার মো‏হাম্মদ আলী, ইমরুল হাসান অমি, জি,এম, ইকরামুল ইসলাম, শেখ মাসুদুর রহমান, শেখ আব্দুস সাত্তার ও প্রভাষক ময়নুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
জানাযা পরিচালনা করেন মাওঃ দিছার উদ্দীন। এর আগে দুপুরে খুলনায় মরহুমার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, এমপি পত্নী মোমেনা হক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খুলনার বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। আগামী রবিবার বিকালে পুরাইকাটিস্থ বাসভবনে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পাইকগাছায় দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

পাইকগাছায় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। হাঁস চুরির অভিযোগে ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান জুম্মন সরদার ও হাসান নামে দুই শিশুকে কয়েক ঘণ্টা গাছে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে বলে শিশুসহ তাদের পরিবার অভিযোগ করেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, বান্দিকাটি গ্রামের ভাড়াটিয়া হাবিল সরদারের ছেলে ও মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুম্মন সরদার ও গোপালপুর গ্রামের কছিমউদ্দীন মোড়লের মঠবাটী মাদরাসার ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে হাসান ও তাদের সহপাঠী জাহিদুল শুক্রবার দুপুরের দিকে খেলা শেষে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের ভিতর থেকে প্রতিবেশী পুরাইকাটি গ্রামের ব্যবসায়ী ছবেদ আলীর ছেলে শাহিনুর রহমানের একটি হাঁস মেরে ও অপর ৩টি হাঁস ধরে নিয়ে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। পরে টের পেয়ে শাহিনুর রহমান শিশু জুম্মন ও হাসানকে ধরে এনে বসত বাড়ীর আম গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে মারপিট করে বলে জুম্মনের মা পারভীন বেগম জানিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা বেঁধে রাখার পর সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্তে স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে জড়ো হলে তখন দুই শিশুকে তাদের অভিভাবকের নিকট ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে সরেজমিন গেলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শাহিনুর রহমান বলেন, আমি রাগের বশে দুই শিশুকে কিছু সময়ের জন্য গাছের সাথে বেঁধে রাখি। পরে আমি ভুল বুঝতে পেরে তাদেরকে ছেড়ে দেই।