Wednesday, April 17, 2013

তালিকা প্রস্তুত, ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নিয়ে মাঠে নামছে সরকার

সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের একটি সম্মিলিত বাহিনীর মাধ্যমে জামাতী জঙ্গীদের নির্মূল করার জন্য শীঘ্রই 'অপারেশন ফ্রিডম' নামে দেশব্যাপী একটি অভিযান চালাবে সরকার। সেই সাথে বিভিন্ন নাশকতার সাথে জড়িতদের নামের তালিকা করা হয়েছে। তালিকা ধরে ধরে সাড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিককালে জামাত-শিবিরের ভয়াবহ আক্রমণ এবং বিশৃঙ্খলা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও নানামুখি ষড়যন্ত্র চলছে। মহা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাধারন মানুষ।

গত দুই মাস ধরে জামায়াত-শিবিরের সারাদেশে তান্ডবলীলা চালাচ্ছে। তার পাশাপাশি বিএনপিও হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসুচীতে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। পুলিশের উপর চালানো হচ্ছে নারকীয় হামলা। পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার রেল লাইনের স্লিপার তুলে নাশকতা চালানো হচ্ছে। যানবাহনের পাশাপাশি ট্রেনের বগিতেও অগ্নিসংযোগ চলছে। তাদের ধ্বংসাতক কর্মকান্ড রুখতে গেলে ভয়াবহ সংঘর্ষের রূপ নিচ্ছে। চিহ্নিত আসামীদের গ্রেফতার করতে গিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে।

এরমধ্যে যোগ হয়েছে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। আর এই সংগঠনকে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগ নেতৃত্ত্বধীন সরকারের অন্যতম প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চাচ্ছে। জামাত শিবির হেফাজতিরা মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে উসকে দিচ্ছে। সম্প্রতি ফটিক ছড়িতে সহিংস ঘটনা ঘটনার নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াতের পরো ইন্দন রয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ তাদের ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছে। হরতালকারীদের ওপর একরকম বলা যায় গুলি চালাতে বাধ্য হচ্ছে। গত কয়েকদিনে পুলিশের গুলিতে যেমন অনেক লোক মরেছে, তেমনি নৃসংসভাবে পুলিশও মরেছে জামাত শিবির হেফাজতিদের হাতে।

সরকারের বক্তব্য, যুদ্ধাপরাধী হিসাবে অভিযুক্ত আটক নেতাদের মুক্ত, বিচার বানচাল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজনীতির নামে এমন ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। তাদের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। এজন্যই 'অপারেশন ফিড্রম' নাম দিয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি এবং পুলিশের সৎ মেধাবী ও যোগ্য সদস্যদের বাছাই করে একটি চৌকস বাহিনী মাঠে নামছে। এই বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা এবং ইনডেমিনিটি প্রদান করে সারাদেশের জঙ্গীদের অপতৎপরতা বন্ধ করার জন্য মাঠে নামানো হচ্ছে।

সূত্র মতে, অপারেশন ফ্রিডম চলাকালীন সময়ে দেশে বিশেষ ধরণের জরুরি অবস্থা জারী করা হবে। ঐ অবস্থায় অপারেশন ফ্রিডমের কর্মকান্ডের খবর প্রকাশে বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে। অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য হবে স্বাধীনতা বিরোধী, জঙ্গী, সন্ত্রসী, চিহ্নিত অপরাধী এবং ক্ষেত্র বিশেষ দূর্নীতিবাজদের দমন। এমনকি সরকারি দলের ছত্রছায়ায় যেসব লোক বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত তাদেরকেও এই অপারেশনের আওতায় আনা হবে।

গোয়েন্দাদের প্রস্তুতকৃত নাশকতায় নেপথ্যদের নামের তালিকা আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে। গত মাসেই এই তালিকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে জামায়াতের ১২৪ জন ও বিএনপির ৬৮ জন, খুলনা বিভাগে জামায়াতের ৯৩ জন ও বিএনপির ৮ জন, রংপুর বিভাগে জামায়াতের ১শ জন, বিএনপির ৮২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে জামায়াতের ১৩৯ জন, বিএনপির ১০২ জন, ঢাকা বিভাগে জামায়াতের ১৭২ জন, বিএনপির ১১৬ জন, বরিশাল বিভাগে জামায়াতের ৫৪ জন বিএনপির ১০৮ জন ও সিলেট বিভাগে জামায়াতের ৭৫ জন ও বিএনপির ৪৮ জনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

তালিকায় থাকা সবাইকে নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শীর্ষ নেতাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: http://www.istishon.com/node/1181

Tuesday, April 16, 2013

কপিলমুনিতে চারো ঘুরিয়ে দিয়েছে অনেকেরই ভাগ্যের চাকা !

চারো, চাই ঘুন্সি বা ঘুনি যে, যে নামেই সম্বোধন করুক না কেনো ঘের অঞ্চলে সাদাসোনা খ্যাত চিংড়ি ধরতে এর কোনো জুড়ি নেই। খেওলা জালের ব্যবহার অধিকহারে কমে গিয়ে মাছ ধরতে এখন প্রতিটি ঘের মালিকের প্রধান অবলম্বন ঘুন্সি, ঘুনি, চারো বা চাই।

যার ফলে ঘুনি বা চারো তৈরী করে এ অঞ্চলের অনেকেই আজ সাবলম্বী। দারিদ্রতা দুর করে ঘুরিয়ে দিয়েছে তাদের ভাগ্যের চাকা। দক্ষিণ অঞ্চল সহ পাইকগাছাতে ব্যপক ভাবে এর ব্যবহার ও প্রচলন শুরু হয়েছে। সরকারী পৃষ্টপোশকতা পেলে এ শিল্প আরোও প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন এ পেশায় নিয়োজিত কারিগররা।


বিগত ৮০’র দশকে মাছ ধরতে যে খেওলা জালের অবাধ ব্যবহার ছিল, কালক্রমে তা এখন শখের কোটাই রয়েছে। অনেকেই নিজ পুকুরের মাছ ধরতে বা শখ বসত খেওলা জাল বাড়িতে রেখে দিয়েছে। যা সচরাচর পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। এক সময় নদী মাতৃক দেশ হিসাবে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল খেওলা জালের ব্যবহার। সে সময় খাল, বিল, জলাশয় ছিল উন্মুক্ত। গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ ছিল এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে অতি পরিচিত বাণী। কিন্তু আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে বাঙ্গালী তার এ ঐতিহ্য ও অতীত এ সব বাণী এক প্রকার হরিয়ে ফেলেছে। খাল, বিল, এমনকি নদী পর্যন্ত সরকারী ইজারা প্রদান করায় বাঙ্গালীর পূর্ব ঐতিহ্য এখন এক প্রকার বিলিন। জানাগেছে, এক কালের সোনালী আঁশ খ্যাত পাট, ধানসহ নানা প্রকার শস্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়ে মুলত ৯০ এর দশক হতে দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে ব্যাপকহারে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। শুধু তাই নয়, অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ একে একে ঝুকে পড়ে চিংড়ি চাষের উপর। এমতাবস্থায় সাদা সোনা চিংড়ি ধরতে প্রথমে খেওলা জালের ব্যবহার থাকলেও প্রযুক্তিগতভাবে চারোর ব্যবহার শুরু হয়। মাছ ধরার সহজ উপায় হিসাবে চারো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সে কারণে অনেকে ভিন্ন পেশা ছেড়ে চারো তৈরীর পেশাকে বেঁছে নেয়। এ কাজে মুলত জড়িয়ে আছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। পাইকগাছা উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকাসহ কপিলমুনির শ্রীরামপুর গ্রামের লুৎফর রহমান, সবুজ হোসেন, নাছিরপুরের আমজাদ, পবিত্র, সুকুমার ও নোয়াকাটির আজিজসহ অনেকেই চারো তৈরী করে সাবলম্বী হয়েছে। ঘের মালিকরা সহজে সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ী ধরতে এ চারো ব্যবহার করছে নিচিন্তে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর সরকারী হিসাব মতে উপজেলায় ১৬ হাজার ৮ শ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। আর এ সকল মৎস্য ঘেরে মাছ ধরতে প্রায় ১ থেকে দেড় লক্ষ চারো উৎপাদন প্রয়োজন। যা বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘের মালিকরা প্রয়োজন মত সংগ্রহ করে থাকেন। এ পেশায় নিয়োজিত শিল্পীরা মুলত বাঁশ ও লাইলোন সুতা দ্বারা সারা বছরই চারো তৈরীর কাজ করে থাকেন। যদিও চারো তৈরী অত্যন্ত কষ্টের তবুও প্রতিটি চারোর মুল্য ১৩০ টাকা করে রাখা হয়, যা খরচ খরছা বাদে চারো প্রতি ৭০/৮০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে বলে জানিয়েছেন চারো শিল্পী ও বিক্রিতারা।

স্যালুট !

পৃথিবীর কয়টা দেশের মানুষ পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে এই দৃশ্য দেখেছে জানা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে Voice of Paikgacha এর পক্ষ থেকে স্যালুট; পরিবর্তনের শুরুটা হউক এখান থেকেই।