Sunday, March 30, 2014

কপিলমুনিতে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল

নগদ নারায়নে তুষ্ট ভূমিকর্তারা কুম্ভকর্ণের ভূমিকায়


কপিলমুনিতে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। সরকারের লাখ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখল করে ভূমি দস্যুরা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সংশ্লিষ্ট ভূমিকর্তারা নগদ নারায়নে তুষ্ট থেকে কুম্ভকর্ণের ভূমিকা পালন করছেন।

জানা যায়, কপিলমুনি বাজারের কাঠগোলায় ৮২ শতক জমি তৎকালীন বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে বাজারের উন্নয়নে খুলনা জেলা প্রশাসকের নামে খরিদ করা হয়। এরপর কালক্রমে একে একে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তাদের নগদ নারায়নে তুষ্ট করে নামমাত্র কাগজ করে দখল হতে থাকে সরকারের এই মহামূল্যবান সম্পত্তি।

১৯৯৬ সালে সাংসদ এড. শেখ মোঃ নুরুল হকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন উক্ত ভূমি দস্যুদের কবল থেকে ওই সম্পত্তি উদ্ধার করেন। এরপর এক শ্রেনীর লোভী ভূমিকর্তাদের মোটাংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ওই সম্পত্তি পূনরায় দখল করেছেন ভূমিদস্যুরা। এছাড়া ওই ৮২ শতক সম্পত্তি ছাড়াও সি এস খতিয়ানের ৫ দাগের রাস্তা, পানি সরবরাহের খাল ভরাটি জায়গাসহ অনেক সরকারি সম্পত্তি এখন ভূমি গ্রাসীদের দখলে। ওই সকল দখলকৃত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে দোকানঘর, বাড়ী, স’মিল সহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সচেতনদের দাবী অনতিবিলম্বে সরকারের ওই সম্পত্তি দখল মুক্ত করে সরকারি তত্বাবধানে নির্মান করা হোক সরকারি বানিজ্য বিপনী, সরকারি কোষাগারে সঞ্চিত হোক কোটি কোটি টাকা। এ ব্যাপারে খুলনা-৬ আসনের সাংসদ এড. শেখ মোঃ নুরুল হকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

পাইকগাছায় বাঁকার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ

শনিবার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বাকা বাজারস্থ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শ্রীকণ্ঠপুর কমিউনিটি ক্লিনিক সাপোর্ট গ্রুপের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন রাড়ুলী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আব্দুস সবুর। প্রশিক্ষণ দেন সিএইচসিপি রাজিয়া সুলতানা ও স্বাস্থ্য সহকারী নিখিল চন্দ্র ঘোষ।

কপিলমুনিতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ; চিংড়ি শিল্প ধ্বংসের পথে

কপিলমুনিতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে সম্ভাবনাময় এশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
 
জানা যায়, কপিলমুনি এলাকাটা বেশ পূর্বের থেকে সাদা সোনা নামে খ্যাত চিংড়ি শিল্পে বিখ্যাত। এখানে ৯৫% কৃষি জমিই চিংড়ি চাষে ব্যবহার হচ্ছে। প্রতি বছর চিংড়ি মৌসুমে এলাকার চিংড়ি চাষীরা মোটা অংকের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জণ করে থাকেন।

কপিলমুনি এলাকার চিংড়ি চাষীদের একটা সুনাম থাকলেও কতিপয় চিংড়ি ব্যবসায়ীরা ওজন বাড়াতে প্রতিনিয়ত শাবু, ভাতের মাড় ও চাউলের জল পুশ করে সে সুনাম নষ্ট করেছে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী হিমায়িত চিংড়ি বাজারজাত করার সময় অনেকে ভাইরাসযুক্ত চিংড়ি মিশিয়ে দেয়।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১০ সালে জানুয়ারী থেকে জুন ও জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থ বছরে ১৫৯৭ কোটি ৬০ লাখ, ৪৯ হাজার ৯১৯ টাকার ৪ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৯ কেজি বাগদা গলদা এবং হরিণা, চাকা, চালি, টাইগার চিংড়ি ও সাদা মাছ রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ৬ মাসে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৪ কেজি ও ২ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৯ কেজি মাছ রপ্তানি হয়।

২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থ বছরে ২৬ কোটি ১১ লাখ ৫ হাজার ১১১.২৩ টাকার ৮ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৫ কেজি বাগদা, গলদা ও অন্যান্য সাদা মাছ রপ্তানি করে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালের আগষ্ট পর্যন্ত রপ্তানি কমেছে ১৮ কোটি টাকা। যার ফলে সরকারের এই খাতে রাজস্ব আয় মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। অপদ্রব্য পুশ করাকে কারণ হিসেবে দেখা গেছে ।

সূত্র জানায়, কপিলমুনি এলাকার কতিপয় ব্যবসায়ী বর্তমানে চিংড়িতে পুশ করা কাজে নিয়জিত রয়েছে। এরা চিংড়ি ক্রয় করেই গোপন স্থানে নিয়ে অপদ্রব্য পুশ করে থাকে। পুশ করা এসব চিংড়ি মাছ কোম্পানীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। পুশ করার কারণে বেলজিয়াম ও ইউকে থেকে হিমাইত চিংড়ি ফেরৎ এসেছে একাধিকবার। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো জরুরী বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।