Thursday, July 17, 2014

পাইকগাছা এখন মাদকের স্বর্গ রাজ্য !

রাঘোব বোয়াল ধরারা ছোঁয়ার বাইরে, চুনোপুঁটি ধরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে প্রশাসন !


পাইকগাছায় মাদক গ্রাস করছে উঠতি বয়সের যুবকদের, বাড়ছে ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ। পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভারত থেকে সীমান্ত পথে চোরাইভাবে আসছে মাদক দ্রব্য। ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে যুব সমাজ। কলুষিত হচ্ছে সমাজ, নির্যাতিত হচ্ছে গৃহবধুরা, ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা। 


পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধিরা এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। 

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দরগাহপুর এবং বড়দল হয়ে চাঁদখালী ইউনিয়নের কিছু এলাকা দিয়ে এই মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে পাইকগাছায়। এছাড়াও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চোরাই পথে বাধাহীনভাবে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য।

বর্ডার গার্ড ও পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় এক শ্রেনীর উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে মাসিক চুক্তি থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা বহাল তবিয়তে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে।

মদ, গাজা, ফেন্সিডিল, আফিন, হেরোইন, ইয়াবা’সহ নেশা জাতীয় সকল দ্রব্য চোরাই পথে নিয়ে আসার জন্য প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মটরসাইকেল, নছিমন, করিমন, আলমসাধু, বাইসাইকেল এমনকি এ্যাম্বুলেন্স ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্ডার থেকে চোরাই পথে সাতক্ষীরার ভিতরের রাস্তা দিয়ে দরগাহপুরের মধ্যে দিয়ে প্রধানত এই মাদক ঢুকে থাকে এলাকায়। এখান থেকে কৌশলে এ সকল মাদক দ্রব্য স্থল ও নদী পথে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ হয়ে থাকে।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসদরের বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন, মাদক বিক্রয় হচ্ছে হরহামেশায়। বিশেষ করে উপজেলার বাঁকা, কাটিপাড়া, কাটাখালী, মাটামের গেট, শিববাটি ব্রীজ, বোয়ালিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থান, সরল, বাান্দিকাটি, কপিলমুনি বাজারসহ পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা, গদাইপুর, চাঁদখালী বাজার‘সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা, সোলাদানা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কিছু স্থান, ৬নং ওয়ার্ডের কিছু স্থান, পৌর বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টসহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনসহ হরহামেশায় বিক্রি করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক যুবক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এ সকল মাদক ব্যবসায়ীরা স্ব-স্ব এলাকার যুবকদের ম্যানেজ করে তাদের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে দিচ্ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারায় এ সমস্ত মাদক সেবিরা বাধ্য হয়ে চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে।

এ সব মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও তদের সাথে জড়িত প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, গত ২ মাস যাবৎ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের অপরাধে জেলা ও জরিমানা আদায় করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না মাদক রুটগুলো।

এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) শ্যামলাল নাথ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা এবং সেবন ও বিক্রয়কারিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি ও জরিমানা করা হয়েছে।

ওসি সিকদার আককাস আলী বলেন, মাদক সেবন ও বিক্রয়কারীদের কঠোর হস্তে দমনসহ আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। আমাদের কোন অফিসার যদি এই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তাকে অব্যশই আইনের আওতায় আনা হবে। ফাঁড়িগুলোকে এই বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যহত থাকবে।

প্রবল জোয়ারের পানিতে পাইকগাছা পৌর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত

পূর্ণিমার প্রভাবে নদীর জোয়ারের পানি উপচে পড়ে ও বৃষ্টির পানিতে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পোল্ডারের প্রায় চার কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 


জানা গেছে, পূর্ণিমার প্রভাবে নদ-নদীতে গত ৪/৫ দিন যাবৎ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকগাছা পৌর সদরসহ উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতে জোয়ারের সময় পৌর শহরের গাঘেষা শিবসা নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বাজার এলাকা। ফলে পৌর বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা রয়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে।

এদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর শহরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ সরকারি খাস খালগুলিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নিষ্কাশনে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডস্থ বাতিখালী, সরল ও শিববাটী এলাকা প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হয়।

শুধু বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ নয়, সরকারি খাস খালগুলি জবরদখল করে বসতবাড়িও নির্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই এসব খাস খালগুলি দখল মুক্ত করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসী।

এদিকে উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুতুলখালী গ্রামের গুনোখালী নদীর ভেঙ্গে যাওয়া ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ স্থানীয় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামত করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ১০/১২ পোল্ডারস্থ উপজেলার গড়ুইখালী ইউনিয়নের কুমখালী, হড্ডা, লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা ও বাইনতলা, ২৩নং পোল্ডারস্থ সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা ও সোনাখালী এবং ১৬নং পোল্ডারস্থ গদাইপুর ইউনিয়নের হিতামপুর এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ মারত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এ সকল ভেড়িবাঁধ মেরামতের ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ মজুমদার উপজেলার অভ্যন্তরীণ প্রায় ৪ কিলোমিটার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে শিকার করে সাংবাদিকদের বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এখনই মেরামত বা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা।

পাইকগাছায় তক্ষক সাপ'সহ আটক ১

পাইকগাছা থানা পুলিশ গোপন খবরের ভিত্তিতে একটি তক্ষক সাপ'সহ একজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনগত রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার রাড়ূলী ইউনিয়নের শ্রীকণ্ঠপুর গ্রাম থেকে তক্ষক সাপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই গ্রামের মৃত গাজী খাঁ’র পুত্র মোঃ মোজাম খাঁ (৪৫) কে আটক করা হয়েছে।



মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক বিশ্বজিত বলেন, উদ্ধারকৃত তক্ষক সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।