Saturday, September 13, 2014

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মারধরের পর কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ

পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদে আদালত প্রেরিত মামলার শুনানিকালে জনসমক্ষে এক ব্যক্তিকে মারধরের পর কান ধরে ওঠবস করানোসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমনগরের একটি মারামারির ঘটনায় সিদ্দিক সরদারের স্ত্রী জেসমিন (২৫) প্রতিপক্ষ আনছার সরদার গংদের বিরুদ্ধে পাইকগাছার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ আনছার গং বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ সিট) পত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে আনছার সরদার প্রতিপক্ষ সিদ্দিক সরদার গংদের বিরুদ্ধে অনুরূপ একটি অভিযোগ এনে একই আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরন করেন। গত রবিবার দু’পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির একপর্যায়ে সিদ্দিককে মামলা তুলে নিতে বললে সে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধরের পর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু এর নির্দেশে কুড়িবার কান ধরে উঠবস করানো হয় বলে সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন।

নছিমন চালক সিদ্দিকের স্ত্রী জেসমিন জানিয়েছেন তার স্বামী এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সরাসরি কেউ মুখ খুলছেন না। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে কপিলমুনির আঃ রব মিঠু নামে এক ব্যবসায়ী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত মাসের ১০ তারিখে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন।

অপরদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রানাধীন মাতৃ ভাউচার স্কীমের কপিলমুনি ইউনিয়নে দায়িত্বরত লায়লী খাতুন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মুসলিমা খাতুন, জাহানারা, আঞ্জুমানারা, মোঃ আবু জাফর, তুষার সরকারসহ ১২ জন কর্মচারী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ও আশোভন কথাবার্তারার অভিযোগ এনে স্থানীয় এমপি এড. শেখ মোঃ নূরুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবির উদ্দীন’কে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ সমস্ত অভিযোগ সর্ম্পকে ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Friday, September 12, 2014

সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল গ্রেফতার; ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পাইকগাছার বহুলালোচিত মামলাবাজ গোলক মন্ডল (৩৬) কে মারপিটের অভিযোগে উপজেলার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম এনামুল হক’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পৌর সদরস্থ হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে হামলায় আহত গোলক মন্ডলকে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে গতকালই থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম এনামুল হকের সাথে অত্র ইউনিয়নের খালিয়ারচক গ্রামের মৃত গোবিন্দ মন্ডলের পুত্র গোলক মন্ডলের বিরোধ রয়েছে অনেক আগে থেকে। বিরোধের জের ধরে বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলাও রয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলক চন্দ্র মন্ডল মোটরসাইকেলযোগে পাইকগাছা সদর থেকে বাড়ি যাবার পথিমধ্যে ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামে পৌঁছালে এনামুল হকের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন গোলককে ধরে বেধড়ক মারপিট করে। আকষ্মিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং পুলিশ গোলক মন্ডলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার আককাস আলী বলেন, আহত গোলক চাঁদাবাজি ও শ্লীলতাহানী মামলার আসামী হওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় গোলক মন্ডল বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম এনামুল হক’কে প্রধান করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অপর আসামীরা হলো আনিস মোল্লা, ইউপি সদস্য মাহাবুব জোয়াদ্দার, আনিস সানা, রাসেল সানা, রেজাউল সরদার, দিলীপ ঢালী, কার্ত্তিক সানা, চৈতন্য মন্ডল, অশেষ ঢালী, রমেশ মন্ডল ও জাহাঙ্গীর হোসেন।

গতকাল রাতে ধৃত ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম এনামুল হককে আদালতে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় গোটা সোলাদানা ইউনিয়নে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

পাইকগাছায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীর গালে থাপ্পড় দিলো বখাটে যুবক; অভিভাবরা শঙ্কিত

পাইকগাছার ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দোতলায় উঠে বহিরাগত এক যুবক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও গালে থাপ্পড় মারার ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় স্কুলের ছাত্রীদের অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় ছাত্রীর পিতা মিন্টু গাজী সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন।

আবেদন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার স্কুল চলাকালীন সময়ে মেল্লেক পুরাইকাটী গ্রামের শেখ নূর আলী ওরফে মেঝ নুনুর বোখাটে পুত্র শেখ হাসান স্কুলের দোতলায় উঠে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় উক্ত ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তার কান মুখ বরাবর চড় মারে। এ সময় উপস্থিত তার সহপাঠীরা কোন প্রতিবাদ না করে উল্লাস প্রকাশ করলে উক্ত স্কুল ছাত্রী লজ্জা ও ক্ষোভে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি চলে আসে এবং তার মা এবং খালাকে জানায়।

পরবর্তীতে তার মা এবং খালা মেয়েকে সাথে নিয়ে ঘটনাটি জানতে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে হাসান, সাগর, সালামিনসহ ১০/১২ জন যুবক তাদের পথ আটকিয়ে বলে, এ বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার মেয়েকে রেফ করে ভিডিও করব এবং সেটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব এবং এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেব।

এ ঘটনায় তারা ভীত হয়ে পড়ে এবং বাড়ি ফিরে এসে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ জাকির হোসেন লিটনকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন লিটন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী পাড় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এসএম সৈয়দ আলী সরদারকে অবহিত করেন। ইউপি সদস্যের কাছে এ ঘটনা শুনে তারা বিষয়টি জানে না বলে সন্ধ্যায় মিন্টু বাড়ি যায়। তাকে কিছু না বলে উল্টো তার মেয়ে কেন দোতলায় উঠেছিলসহ বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাকে মানসিক চাপে ফেলে দেয় বলে মিন্টু জানায়। ইতোমধ্যে মিন্টুকে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে অব্যহত হুমকি প্রদান করে চলেছে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে তার মেয়ের স্কুলের আসা যাওয়ার পথে গোপালপুর গ্রামের হিরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজা বিক্রেতা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ঝর্না বেগমের পুত্র সাগর বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করে আসছে। মিন্টু তার মেয়ের স্কুলে পড়াশুনা ও তার নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে কোন সময় তার মেয়ে ও পরিবারের প্রতি বড় আকারের প্রতিহিংসামূলক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। সে বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার ও মেয়ের নিরাপত্তা দাবী করেছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী পাড়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা, সন্ধ্যায় শুনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ মিন্টুর বাড়ীতে গিয়েছিলাম। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী শনিবার উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এসএম সৈয়দ আলী জানান, শনিবার ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে, মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

স্কুলের দোতলায় উঠে বহিরাগত এক যুব স্কুল ছাত্রীর গালে চড় মারার ঘটনা স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না এ বক্তব্য শুনে স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।