Friday, September 19, 2014

পাইকগাছায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছায় মনসা পূজা উপলক্ষে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লতা ইউনিয়নের নড়া নদীতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৩টি দলের মধ্যে সাতক্ষীরার নৌকা বাইচ দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

ছবি :: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা শেষে কুমারেশ মন্ডলের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য অনাথ বন্ধু মন্ডল, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল, প্রান কৃষ্ণ মন্ডল, আশুতোষ মন্ডল, বিধান রায়, রাজিব রায়, লক্ষন মন্ডল, দিনেশ তরফদার, বিপুল বিশ্বাস, বিদেশ রায়, শুভংকর রায়, সুব্রত তরফদার ও কুমারেশ রায়।

পাইকগাছায় ইউপি শালিসি বৈঠাকে দফায় দফায় মারপিট

পাইকগাছায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ইউপি সদস্যের শালিসি বৈঠাকে দফায় দফায় মারপিট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোস্তফা সরদার (৪৫) ও মোবারেক সরদার(৩৫) নামের দু’সহোদর মারাত্মক আহত হয়েছে। আহতদের প্রথমে কপিলমুনি হাসপাতালে ও পরে মোস্তফার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে খুলনায় প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কপিলমুনির শহরতলীর প্রতাপকাটি গ্রামে সবুর সরদার গংদের সাথে আপন চাচাতো ভাই মোস্তফা গংদের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ইউপি সদস্য মোঃ ইউনুছ আলী উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার শালিসি বৈঠাক বসায়।

উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সবুর সরদারের নের্তৃত্বে আইয়ুব, শরিফুল, পারভেজ ও আঃ হাকিম অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোস্তফা সরদার ও মোবারেক সরদারকে বেধড়ক মারপিট করে। দফায় দফায় চলে মারপিটের এ ঘটনা। এতে মোস্তফা সরদার ও মোবারেক সরদার মারত্মক আহত হয়। আহত দু’সহোদরকে প্রথমে কপিলমুনি হাসপাতালে ও পরে মোস্তফাকে খুলনায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী জানান, দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে বসাবসি করি। কিন্তু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে তবে আমরা ঠেকানোর চেষ্টা করি।

কপিলমুনির পুলিশ ফাঁড়ির এস আই হাসমত আলী জানান, বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। আমি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে আহতদেরকে চিকিৎসা করাতে বলি।

দুঃখজয় : দুধ উৎপাদন করে সচ্ছলতার পথ পেয়েছে আইলাবিধ্বস্ত দক্ষিণ সলুয়ার মানুষ

সত্যপদ দাস নিতান্তই একজন গরিব মানুষ। চাষের জমির পরিমাণ এতই কম যে, তা থেকে বছরের ভাত হয় না। তাই চাষবাসের সাথে বাড়তি আয়ের জন্য স্বল্প বেতনের দোকান কর্মচারীর কাজ নিয়েছিলেন। কিন্তু এ কাজে তাকে এত বেশি সময় দিতে হতো যে, জমি বলতে যেটুকু ছিল তা আবাদ করার সময়-সুযোগ পেতেন না। আর তাই সংসারে টানাপড়েন লেগেই থাকত। এ অবস্থা থেকে তাকে সচ্ছলতার পথ দেখায় পল্লী দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতি।

সত্যপদ দাসের বাড়ি দক্ষিণ সলুয়া গ্রামে। এ গ্রামে দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির কার্যক্রম শুরু হয় গত বছর। গ্রামের ১২৫ জন এ সমিতির সদস্য। সমিতির সভাপতি সরদার মমিন উদ্দিন জানান, সমিতি পরিচালিত ফার্মে ১৩টি গাভী এবং সদস্যদের বাড়িতে ৫০টি গাভীতে দুধ দিচ্ছে।

এভাবে প্রতিদিন ৫০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। তারা পাইকারি দাম কেজি প্রতি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতিদিন সাড়ে ১৭ হাজার টাকা পান। সব খরচ বাদে সদস্যরা পান ১০০ টাকা করে। এটা তাদের বাড়তি আয়। ক্ষেত-খামার, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি এমনকি মহিলারা গৃহস্থালি কাজ করেও দুধ উৎপাদনে অংশ নিতে পারছেন।

তিনি জানান, আইলা উপদ্রুত এ জনপদের মানুষ আজো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করে তাদের আয়ের পরিমাণ বাড়াতে পারলে সঙ্কট উত্তরণে সহায়ক হবে। এ জন্য প্রতিদিন সদস্যদের বাড়তি আয়ের পরিমাণ যাতে বাড়ে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এ জন্য পুঁজির প্রয়োজনে কৃষি ব্যাংক বরাদ্দ করেছে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার ঋণ।

সমিতির সভাপতি সরদার মমিন উদ্দিন জানান, যোগাযোগ সঙ্কটে তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। প্রতিদিন ৩৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দুধ বিক্রির জন্য সাতক্ষীরায় যেতে হয়। দীর্ঘ এ পথের কপিলমুনি থেকে আঠারমাইল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বছরের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে। শুকনো মওসুমে পানি সরে গেলেও রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দূরের পথ হলেও রাস্তা ভালো হলে কোনো সমস্যা হতো না।