Friday, June 21, 2013

সংবাদ প্রকাশের ১ দিন পর বাইনতলা স্লুইচ গেট নদীগর্ভে বিলীন

পাইকগাছায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় ঝূঁকিপূর্ণ বাইনতলা স্লুইচ গেট ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গেট এবং বেঁড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিলে বুধবার বিভিন্ন গনমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিকে ভাঙ্গনের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোন মুহুর্তে দু’উপজেলার বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারের ৬০ এর দশকে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেটে গত কয়েকমাস আগে ফাটল দেখা দেয় এবং সম্প্রতি বাঁধের একটা অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্লুইচগেটটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বুধবার গেটের পূর্ব পাশের বড় একটা অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে গেট সংলগ্ন এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান।

ভাঙ্গনের খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোন মুহুর্তে উপজেলার লস্করের আলমতলা, খড়িয়া, চাঁদখালী, গড়ইখালীর সুড়িখালী, বাইনবাড়ী, কুমখালী, পার্শ্ববতী কয়রা উপজেলার হড্ডা, হাতিয়ারডাঙ্গা, আমাদী, চান্নিরচকসহ দু’উপজেলার বি¯তৃর্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে শত শত চিংড়ী ঘেরের কোটি কোটি টাকার মাছ, হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমির ফসলসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এলাকাবাসীরা জানান। এ ব্যাপারে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ মজুমদার জানান স্লুইচ গেটটি ষাট এর দশকে নির্মিত হওয়ায় বর্তমানে ধারন ক্ষমতা না থাকায় এ দুর্দশা সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এই মুহুর্তে সংস্কার বা পূনঃ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান জানান।

কপিলমুনি সাব পোষ্ট অফিসের বেহাল দশা; জনবল সংকট

পাইকগাছা উপজেলার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি সাবপোষ্ট অফিসের (কোড নং-৯২৮২) বর্তমানে বেহাল দশা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল, অফিসের জনবলও নেই পর্যাপ্ত।

জানা যায়, দানবীর স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু কর্তৃক কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজার প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৬০/৬৫ বছর যাবৎ সাব পোষ্ট অফিস অত্রাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের সেবায় কাজ করে চলেছে। পাইকগাছা-খুলনা সড়কের সন্নিকটে আনুমানিক ২০ বছর পূর্বে কপিলমুনি বাজারের মধ্যভাগে কলেজ রোডে ৯ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত পোষ্ট অফিসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক কক্ষ বিশিষ্ট ভবনের অফিসটিতে চলে আসছিল পাইকগাছাসহ ৩টি থানার অনেকাংশের মানুষের সেবা দানের কাজ।

কিন্তু সম্প্রতি অফিস ভবনটির ছাদে কয়েক জায়গায় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। খুয়ে খুয়ে পড়ছে প্লাষ্টার। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ও গেটের অবস্থাও খুবই নাজুক। পোষ্ট অফিস ও সীমানা প্রাচীরের এ ভগ্নদশায় সচেতন এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানালা দরজা দেখলে মনে হয় কোন সেকালের ঘর। অফিস কক্ষে অত্যন্ত মূল্যবান কাগজ-পত্রাদী ও সরকারী সম্পদ থাকায় অফিস ভবনটি সংষ্কার তথা আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, অত্যন্ত জনবহুল এলাকা কপিলমুনির জনগুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট অফিসে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, অফিসের সামনে ও ভেতরে অসংখ্য মানুষ সেবা নিতে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ এসেছেন মানিট্রান্সফার (ইএমওএমএমও) করতে, আবার কেউ এসেছেন ডাকবীমা, রাজস্ব টিকিট, জি,ই,পি সাধারণ হিসাবের কাজে। সকলেই পোষ্ট মাস্টার ও পোষ্টম্যানকে বলছেন “আমাকে আগে দিন, আমি খুব ব্যস্থ আছি” আবার কেউবা বলছেন “আমি অনেক দূর থেকে এসেছি আমাকে একটু ছাড়িয়ে দিন।”

কিন্তু এতো গুলো লোকের কাজ করবে মাত্র দু’জন মানুষ। যেটা অনেকটা অসম্ভব। কিন্তু তার পর ও নিরলসভাবে পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টার ও পোষ্টম্যান কাজ করে চলেছেন। সরকারি নীতি অনুযায়ী অফিস সময় ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হলেও কখনো কখনো দেখা যায় দিনের সকল লেনদেনের হিসাবের ইতি টানতে সন্ধ্যা হয়ে যায় তাদের। পোষ্ট অফিস ভবন জরাজীর্ন, সীমানা প্রাচীরের বেহাল দশা ও অফিসের জনবল সংকট, সবমিলে যেন অবস্থাটা হ-য-ব-র-ল। তাই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পোষ্ট অফিস ভবন আধুনিকায়নসহ জনবল বৃদ্ধির জন্য সংশিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Wednesday, June 19, 2013

খুলনার ১০ জেলায় পরিবহণ ধর্মঘট অব্যাহত, দুর্ভোগে যাত্রীরা

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে পরিবহণ ধর্মঘট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। আঞ্চলিক রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছাড়েনি। 

বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১৩ দফা দাবিতে সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটি অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। রোববার মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে শ্রমিকরা এ নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটি রুটের জেলাগুলো হলো বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল এবং সাতক্ষীরা।

বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জানান, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের বেতন ও খোরাকি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রায় তিন মাস আগে এ নিয়ে আলটিমেটামও দেন তারা। রোববার মালিক সমিতির নেতারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায়ও বসেছিলেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সে সভা শেষ হয়। এজন্য শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সোমবার সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে ঢাকাগামী সব পরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে অন্যান্য রুটে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও শ্রমিক নেতা মিন্টু উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতিরি সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেন জানান, চট্রগ্রাম রুটে একই পরিবহণ মালিকরা চালককে যাওয়া-আসা বাবদ বেতন-ভাতা মিলিয়ে এক হাজার ২০০ টাকা দেন। সুপারভাইজার পান ৩৫০ টাকা আর হেলপার পান ৩৭০ টাকা। এছাড়া তারা বিনামূল্যে খাবার পান। সেখানে যশোর-খুলনা অঞ্চলের পরিবহণ চালকরা পায় মাত্র ৯৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৩৫০ আর হেলপার ৩৭০ টাকা। আমরা চালকদের ২০০ টাকা এবং সুপাভাইজার ও হেলপারের বেতন-ভাতা ১০০ টাকা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছি।

তবে আন্তঃজেলা বাস মালিক সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক ও ঈগল পরিবহণের স্বত্তাধিকারী পবিত্র কাপুড়িয়া জানান, চট্রগ্রাম রুটে কোনো ফেরি নেই। অথচ খুলনা-ঢাকা রুটে গাড়িপ্রতি চার হাজার টাকা ফেরি চার্জ পরিশোধ করতে হয়। তারপরও আমরা চালক প্রতি ট্রিপে ১৭৫ টাকা, সুপারভাইজার ও হেলপার প্রতি ৫০ টাকা বাড়াতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু শ্রমকিরা তাতে রাজি হয়নি। এখন শ্রমিকদের দাবি পুরোপুরি মানলে প্রতি ট্রিপে লোকসান গুণতে হবে।