Thursday, August 28, 2014

পাইকগাছায় ধুমপায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানা আদায়

পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালত বিড়ি সিগারেটের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ কবির উদ্দীনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর বাজারে অভিযান চালিয়ে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করার অভিযোগে তামাক নিয়ন্ত্রন আইনে সিগারেটের দোকান মালিক রফিকুল ইসলামকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও প্রচারণামূলক সিগারেটের প্যাকেট আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন।

এছাড়া পাবলিক প্লেসে ধুমপান করার অভিযোগে ধুমপায়ী সুজিত মন্ডলকে ৩০০ টাকা জরিমানা করেন এবং শরীফ হোটেলকে ১০০০ টাকা, উত্তম পাল (কীটনাশকের দোকান) ৫০০০ টাকা, দধিঘর ৫০০ টাকা, কালিমাতা মিষ্টান্ন ভান্ডার ৩০০০ টাকা, মাংস বিক্রেতা সবুর গাজী ২০০০ টাকা, মোটরসাইকেল মালিক ফয়সাল আহম্মেদের নিকট থেকে ৭০০০ টাকা’সহ সর্বোমোট ১৯ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

পাইকগাছা'সহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভারতীয় ভিসার অনলাইন সিরিয়াল এখন সোনার হরিণ

ইন্টারনেটের বিভিন্ন সিষ্টেমের দোহাই দিয়ে ২/৩ মাস ধরে লুকোচুরি করার পর এবার প্রায় বন্ধ হতে চলেছে অন লাইন ইন্ডিয়ান এ্যাপ্লিকেশন ফরমের এ্যাপয়নমেন্ট ডেট। ফলে খুলনা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রোগী এবং হাজার হাজার ভারত ভ্রমণ প্রত্যাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, পূর্বে রাজধানী ঢাকার গুলশানস্থ ষ্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার শাখা অফিস, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ভারতীয় ভিসা অফিস থেকে ইন্ডিয়ান ভিসা প্রদান করা হতো। সে ক্ষেত্রে আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করে এসব ভিসা অফিসে পাসপোর্ট জমা দিতে পারলেই আবেদনকারীরা ভিসা পেয়ে যেত। কিন্তু সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পাসপোর্ট জমা দেয়া ছিল কঠিন কাজ।

এ সকল ভোগান্তি থেকে বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থীদের মুক্তি দিতে হাই কমিশন অফ ইন্ডিয়া অন লাইনের মাধ্যমে আবেদন জমা নেয়া শুরু করে। এতে করে বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীরা অন লাইনে তাদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে এ্যাপয়নমেন্ট ডেট নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে তাদের আবেদনপত্র জমা দিয়ে ভিসা প্রাপ্ত হতো। পরবর্তীতে খুলনা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে হাই কমিশন অফ ইন্ডিয়া খুলনা শহরে ষ্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখা ও ইন্ডিয়ান ভিসা এ্যাপ্লিকেশন রিসিভিং সেন্টার খোলে। এর ফলে এই এলাকার মানুষ অতি সহজেই ভারতীয় ভিসা পাচ্ছিল।

কিন্তু বিগত মে মাস থেকে মাঝে মাঝে অন লাইন ইন্ডিয়ান ভিসা ফরম পূরণ করে কাক্সিক্ষত এ্যাপয়নমেন্ট ডেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তবে দুই তিন মাস এভাবে চললেও ৭ থেকে ১৫ দিনের চেষ্টায় একজন আবেদনকারী তার আবেদন জমা দেয়ার ডেট পাচ্ছিল। কিন্তু প্রায় ২ মাস আগে থেকে অন লইন ইন্ডিয়ান ভিসা ফরম পূরণ করে শেষ পাতায় অর্থাৎ হোম পেইজে ডেট এন্ড টাইম এ্যালোটমেন্ট টু এ্যাপ্লিক্যান্ট এ আসলে “নো এ্যাপয়নমেন্ট আর এ্যাবেল এ্যাবেল” লেখা আসছে।

একটি সূত্র জানায়, দিন রাত ২৪ ঘন্টার কোন এক সময় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের জন্য অন লাইনে ডেট দেখা গেলেও কেউ তার নাগাল পাচ্ছে না।

সূত্রটি আরো জানায়, ১ হাজার ব্যক্তির মধ্যে হয়তো একজন ব্যক্তি তার কাক্সিক্ষত ডেট পাচ্ছে। এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কিছু অসাধু সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীরা অন লাইনে ভিসার ডেট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আদায় করছে।

যশোরে অভয়নগর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন জানান, তার এক আত্মীয়কে ভারতে চিকিৎসা করানোর উদ্দেশ্যে অতি জরুরীভাবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে দুইটি পাসপোর্ট করিয়েছিলেন। কিন্তু দুই মাস ধরে ভিসা জমা দেয়ার ডেট পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। অবশেষে ডেট না পেয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার আত্মীয় মারা গেছেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী হাই কমিশন অফিসে ভারতীয়রা বাংলাদেশী ভিসার জন্য তাদের পাসপোর্ট জমা দিলেই ১ দিনের মধ্যে বিনা পয়সায় তারা বাংলাদেশী ভিসা পেয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশের ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনে বাংলাদেশীরা তাদের পাসপোর্ট জমা দিলে ৪শ’ টাকা এবং খুলনায় জমা দিলে ৬শ টাকা সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়। অনেক পাসপোর্টে ভিসা প্রদান না করলেও ভুল ত্রুটি দেখানো বা সার্ভিস চার্জের কোন টাকা ফেরৎ দেয় না ভারতীয় হাই কমিশন । এর ফলে ভিসা প্রত্যাশিদের মধ্যে ভয়ানক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সহজেই যাতে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সারাদিন ধরে ইন্ডিয়ান ভিসা এ্যাপ্লিকেশন ফরম পূরণ করে পাসপোর্ট জমা দেয়ার ডেট পেতে পারে তার জন্য সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভারতীয় হাই কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করার আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারীরা।

পাইকগাছায় আলোক সংস্থার অভিনব প্রতারণা ফাঁস

পাইকগাছা শাখা ব্যবস্থাপককে গণপিটুনি শেষে পুলিশে সোপর্দ


পাইকগাছায় আলোক সংস্থার অভিনব প্রতারণা ফাঁস। চাকুরীর প্রলোভনে অসংখ্য নারী পুরুষকে উক্ত সংস্থায় চাকুরী ও আকর্ষনীয় প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। যার কারনে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতারণার শিকার অসংখ্য নারী-পুরুষ পাইকগাছা শাখা সংস্থার কর্মরত ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল মোড়লকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি শেষে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগীরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সূত্রমতে, বিগত ২ থেকে ৩ মাস পূর্বে পাইকগাছায় আলোক সংস্থা “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পদচারণা” নামে একটি সংস্থা পাইকগাছার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে কার্যালয় করে অসংখ্য নারী পুরুষকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চাকুরীতে যোগদান করায় এবং মাসিক বেতন নির্ধারণ করে প্রতি জনের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানাত গ্রহন করে।

সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় সাতক্ষীরার তালা পাটকেলঘাটায়। সংস্থাটি পাটকেলঘাটায় প্রধান কার্যালয় এলাকায় খোজ নিয়ে জানাযায় সেখানেও এভাবেই প্রতারণার শিকার শত শত নারী-পুরুষ। প্রোগ্রাম ম্যানেজার আজিজুল ইসলামসহ অত্র সংস্থায় কর্মরত সকল ব্যক্তিরা প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এভাবেই হরহামেশা।

পাইকগাছা ব্রাঞ্চে যোগদানকারী প্রতারনার শিকার ৬০ জন ব্যক্তি। যার মধ্যে ২৪ জনের নিকট হতে ১১ হাজার টাকা এবং ৩৬ জনের নিকট হতে ৫ হাজার করে টাকা গ্রহন করা হয়।

এ ব্যাপারে প্রতারণার শিকার রেখা শীল জানান, আমার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা গ্রহন করা হয়েছে। ফারজানা আক্তার পলি জানান, আমার কাছ থেকেও ১১ হাজার টাকা এবং শ্যামলী রাণীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা গ্রহন করা হয়েছে।