Monday, September 8, 2014

কয়রায় বৃক্ষমেলার নামে অশ্লীল নাচ-গান বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

কয়রায় বৃক্ষমেলার নামে চলছে অশ্লীল পুতুল নাচ-গান ও সার্কাস। উপজেলার উত্তর বেদকাশি কাছারীবাড়ী বটতলায় উর্দ্ধোতন কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিন ব্যাপি বৃক্ষ মেলা। মেলার শুরু থেকেই প্রতিদিন সন্ধার পর অশ্লীল নগ্ন নাচ-গান, অসামাজিক সার্কাস ও যাদু প্রদর্শনীতে হাজার হাজার উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের উপচে পড়া ভীড়।

বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে চলছে অশ্লীল নাচ-গান। এটি বন্ধো করতে স্থানীয়রা কয়রা উপজেলা সদরে ৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে কয়রা সদরের পোষ্ট অফিসের সামনে পথ সভায় বক্তারা বলেন, শুধূমাত্র নামে বৃক্ষমেলা। এখানে বৃক্ষ কেনা বেচা বা এর উপকারীতার ফলাফল শুন্য। মেলা কতৃপক্ষ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল খাটিয়ে চালাচ্ছে অসামাজিক, অশ্লীল নাচ-গান ও যাদু প্রদর্শনী।

এ সকল অশ্লীল নাচ-গান ও যাদু প্রদর্শনী দেখতে দর্শনার্থীদের কাছে ১ম শ্রেনী ১০০ টাকা ২য় শ্রেনী ৭০ টাকা ৩য় শ্রেণী ৫০ টাকা হারে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ৩টা প্যান্ডেলে পৃথক পৃথক ভাবে টিকিট কেনা বেচা চলছে।

বিকাল ৫ টা বাজলেই নাচ গান দেখার জন্য মেলায় ভীড় জমাতে থাকে দর্শনার্থীরা। মেলাটি দেখলে মনে হয়না বৃক্ষ মেলা। মনে হয় এটি একটি বৃহত্তর যাত্রাপ্যান্ডেল। আর আসলেই এখানে চলছে যাত্রা প্যান্ডেলের নাচ গান। বক্তারা আরো বলেন, আইলায় লন্ডভন্ড কয়রায় বৃক্ষ রোপনের নামে মেলাটি চল্লেও প্রকৃত পক্ষে অসৎ উদ্দ্যেশ্যে এলাকার প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়ে করছে অর্থবানিজ্য।

নষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ, অবক্ষয় হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ, বিঘ্নিত হচ্ছে আইনশৃংখলা, বেড়ে চলেছে অপরাধের মাত্রা। মেলার প্রথম দিনেই মেলার সন্নিকট থেকে চুরি হয়েছে একটি মোটর সাইকেল, রোববার সন্ধায় সংখ্যালঘু শতাধীক মুন্ডা সম্প্রদায়কে বেধড়ক মারপিট করেছে একদল যুবক, আহত হয়েছে নারী শিশু’সহ ১০/১২ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদয়ের লোকজন।

এছাড়াও প্রতিয়িত মেলায় চলছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূৃর্ঘটনা। বক্তারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন বৃক্ষমেলায় অশ্লীল নাচ-গান বন্দ না হলে আগামী কাল থেকে মানববন্ধন’সহ বিভিন্ন কর্মসুচি ঘোষনা করা হবে।

এদিকে মেলা ঘুরে কয়েকজন নার্সারী মালিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, গত ৩ দিনে লোকজনের ভীড় থাকলেও বৃক্ষ কেনাবেচা খুবই কম। লোকজন সার্কাস, জাদু ও নাচ-গানে মেতে উঠেছে। বৃক্ষ কেনার দিকে দর্শনার্থীদের কোন খেয়াল নেই। এবার বৃক্ষমেলায় বিগত বছরের তুলনায় কেনা বেচা কম হবে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

বৃক্ষমেলার সভাপতি সরদার নুরুল ইসলামের নিকট মেলায় অশ্লীল নাচ-গান চলছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এবিষয় এড়িয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম হাসান বলেন, মেলায় অশ্লীল নাচ-গান চলছে এটা আমার জানা নাই তবে অসামাজিক কোন কর্মকান্ড হলে তা বন্ধ করা হবে।

পাইকগাছা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন

ঐতিহ্যবাহি পাইকগাছা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 


রোববার অনুষ্ঠিত ৩ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আজিজুর রহমানকে পরাজিত করে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান মন্টু ৪৯, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিনয় কুমার মন্ডল ২৮ ভোট ও শিক্ষিকাদের মধ্যে দর্শন বিভাগের প্রভাষক মাধুরী রানী মন্ডল বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল জানান।

পাইকগাছায় মারপিট ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা

আসামী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও আটক না করার অভিযোগ


পাইকগাছায় মারপিট ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় ৩ উপজেলার ২৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও থানা পুুলিশ আসামী আটক না করায় বাদী ও তার পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের জখারহুলা গ্রামের মৃত অতুল শীলের পুত্র ভবসিন্ধু শীল’এর সাথে একই এলাকার কালিপদ মন্ডলের পুত্র দীপক মন্ডলের জায়গা-জমি ও মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এরই সূত্রধরে ঘটনার দিন গত ১৩ আগষ্ট ভবসিন্ধুর ভাতিজা বিশ্বজিৎ শীল ও তার স্ত্রী শিপ্রা শীল মধুখালী মৌজার মৎস্য ঘের হতে বাড়ী যাওয়ার সময় আসামী গোলক চন্দ্র মন্ডল ও দীপক মন্ডলসহ ১০/১২ জন দুর্বৃত্ত তাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট, শ্লীলতাহানি ও হত্যা চেষ্ঠা চালায়।

এ ঘটনায় ভবসিন্ধু বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। যার নং-সিআর ৪০৮/১৪। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ এর মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। এ আলোকে রোববার পাইকগাছা, কয়রা ও ডুমুরিয়ার ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। যার নং-১৪।

মামলার আসামীরা হলো, পাইকগাছার খালিয়ারচক গ্রামের মৃত গোবিন্দলালের পুত্র গোলক চন্দ্র মন্ডল (৩৫), জখারহুলা গ্রামের দীপক মন্ডল, সাধন মন্ডল, ইন্দ্রজিৎ মন্ডল, রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, পবন মন্ডল, বিন্দা মন্ডল, কালিপদ মন্ডল, বাইনচাপড়া গ্রামের নিত্য মন্ডল, তাপস মন্ডল, পানা গ্রামের কালিপদ সরদার, ডুমুরিয়া উপজেলার শেখেরটেক গ্রামের স্বজল/বাবু ও কয়রা উপজেলার বাবুরাবাদ গ্রামের ইদ্রিস আলী গাজীর পুত্র ইউনুস গাজী।

এদিকে মামলার পর কোন আসামী আটক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাদী ও তার পরিবার।