Monday, June 3, 2013

পাইকগাছায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে চিংড়ীর উৎপাদন

পাইকগাছায় চলতি বছর চিংড়ীর উৎপাদন ভাল হওয়ায় বার্ষিক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার মেঃ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিগত বছরের তুলনায় একদিকে কয়েকগুন উৎপাদন বৃদ্ধি ও কেজি প্রতি দেড়শ টাকা মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক লাভবান হবে বলে চিংড়ী চাষীরা জানান। চিংড়ী চাষের অনুকুল পরিবেশ বিরাজমান থাকা, রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম, চাষীরা অধিক সচেতন ও প্রযুক্তি নির্ভর এবং উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার কারনে উৎপাদন ভাল হওয়ার অন্যতম কারন হিসাবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মৎস্য অফিস।

সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, চলতি বছর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪ সহস্রাধিক ঘেরে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ী চাষ হয়েছে। ৮০’র দশকে শুরু হওয়া চিংড়ী চাষে প্রথম দিকে চাষীরা অধিক লাভবান হলেও রোগবালাইয়ের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা গত কয়েকবছর ধরে লোকসানে থাকায় একপ্রকার লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট চাষীরা।

চলতি বছর উপজেলায় চিংড়ী উৎপাদনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার মেঃ টন। বিগত কয়েকবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও চলতি বছর উৎপাদন ভাল হওয়ায় চলতি জুন মাসের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা জানান। অপরদিকে বিগত বছরের তুলনায় কেজি প্রতি মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে দেড়শ থেকে দু’শ টাকা। উল্লেখ্য চিংড়ীর সাইজ অনুযায়ী ৮ টি গ্রেডে মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে।

পাইকগাছা চিংড়ী বিপনন কেন্দ্রের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জিকো ফিসের জালাল উদ্দিন জানান চিংড়ীর বর্তমান বাজারমূল্য ১২ গ্রেড ১০২০ টাকা, ১৫ গ্রেড ৮৫০ টাকা, ২২ গ্রেড ৬৭০, ২০ গ্রেড ৫৫০, ৩০ গ্রেড ৫১০, ৪৪ গ্রেড ৪৬০, ৬৬ গ্রেড ৩৪০ ও সর্বনিম্ন ১০০ গ্রেড ৩০০ টাকা। বান্দিকাটির চিংড়ীচাষী মোমিন সরদার জানান ১০বিঘা জমিতে সে চিংড়ী চাষ করেছে। চলতি বছর এখনও পর্যন্ত রোগবালাই দেখা দেয়নি, যার কারনে ইতোমধ্যে সে ১০ বিঘা জমির চিংড়ী ঘের হতে ৩ লক্ষ্য টাকার মাছ বিক্রি করেছে। বিগত বছরের ক্ষতি পুশিয়ে এ বছর অধিক লাভবান হবে বলে তিনি জানান।

এ বছর হেক্টর প্রতি ৩ থেকে ৪ শ কেজি উৎপাদন হতে পারে বলে চিংড়ী চাষী এসএম সালাউদ্দিন ইউছুপ জানান। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এসএম শহীদুল্লাহ জানান-চাষীরা এখন অনেক সচেতন ও প্রযুক্তি নির্ভর অধিকাংশ চিংড়ী চাষীরা উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় বিগত বছরের তুলনায় চিংড়ীর উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

Sunday, June 2, 2013

গৃহবধূকে পাচার ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার পৃথক ঘটনায় মামলা দায়ের

উপজেলার পল্লীতে এক গৃহবধূকে ভারতে পাচারের অভিযোগে প্রবাসী স্বামীর পিতামাতা ও ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কানুয়ারডাঙ্গা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। অপরদিকে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম কাইনমুখী গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণ প্রচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। তবে মামলা দু’টির বিষয় নিয়ে স্ব-স্ব এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কানুয়ারডাঙ্গা গ্রামের জনৈক আলাউদ্দীন ঢালীর পুত্র কুয়েত প্রবাসী লিটন ঢালীর (২৮) সাথে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের জনৈক আ. খালেক সরদারের কন্যা পারুল আক্তারের (২০) প্রায় বছর তিনেক আগে বিয়ে হয়। স্বামী লিটন ঢালী বাড়িতে না থাকার সুযোগে গৃহবধূ পারুল আক্তারের শ্বশুর-শাশুড়ীসহ বাড়ির অন্যান্যরা তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে গত ২৬মে দিনগত রাত ১০টার দিক থেকে পারুল আক্তারকে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মোবাইলে পারুলের পিত্রালয়ে খবর জানায়। খবর পেয়ে নিখোঁজ পারুল আক্তারের পিতা ওই দিন’ই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পরে সমূহ সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও পারুল আক্তারকে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার করা হয়েছে এমন অভিযোগে ভিকটিমের পিতা আ. খালেক সরদার বাদী হয়ে মেয়ের শ্বশুর আলাউদ্দীন ঢালী, শাশুড়ী জবেদা খাতুন, দু’দেবর যথাক্রমে রহমত ঢালী ও শরিফুল ঢালী, ননদ খাতুন বিবি ও একই গ্রামের জনৈক হাফিজুর সরদারকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৪৯, তারিখ-৩০/০৫/১৩।

এদিকে সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম কাইনমূখী গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী (২৬) কে একই গ্রামের যুবক রবীন্দ্রনাথ বাছাড় (২৯) বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে গত ২৯মে রাত ৮টার দিকে এ গৃহবধূকে তার বসতঘরে একা পেয়ে একই এলাকার আরো দু’ব্যক্তির সহযোগিতায় জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে রবীন্দ্রনাথ বাছাড়। এসময় গৃহবধূর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এঘটনায় রবীন্দ্রনাথ বাছাড়, পরিতোষ বাছাড় (৩৯) ও প্রকাশ চন্দ্র বাছাড় (২৬)কে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৫০, তারিখ-৩০/০৫/১৩।

কয়রায় চরম দূর্যোগ ঝুকিতে ২ লাখ মানুষ

উপকূলীয় জনপদ কয়রার ২ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক ঝুকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবছর নদীভাঙ্গন,ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের সাথে প্রতিনিয়ত য্দ্ধু করে বেচে আছে এ অঞ্চলের অসহায় মানুষ। তার পরও শত বাধা উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে বেচে থাকতে কত না যন্ত্রনা তাদের পোহাতে হয়। এর মধ্যে সামান্য একটু সাহায্য আর সহানুভুতি পেলেই কত খুশি তা বোঝার উপায় নেই। এই জনপদের মানুষের দুর্যোগ মোকাবেলায় করনীয় দিক সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি বে-সরকারী সংস্থার সহযোগিতায় দূর্যোগ প্রবন এলাকার মানুষের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালের প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলার তান্ডবলীলায় এ জনপদের ৬টি ইউনিয়নের জন জীবন ও উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সেনিটেশন ব্যবস্থা যে কারনে হাজার হাজার মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় ছিন্নমূল মানুষের সেবা দানের লক্ষ্যে ওয়াটার এইড এর সহয়তায় রুপান্তরের এ্যাডাপটিং ওয়াশ ফর ক্লাইমেট চেঞ্চ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। ওই প্রকল্পের উদ্যোগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ,সেনিটেশন উন্নয়নে ল্যাট্রিন সংস্কার সহ দূর্যোগ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে করনীয় বিষয় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া হয়। তার সুফল পাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,কোমল মতি ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

কথা হয় মহারাজপুর ইউনিয়নের কালনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র দিন মোহাম্মদের সাথে সে জানায় রূপান্তরের সহযোগিতায় জলবায়ু পরিবর্তন ও ওয়াশ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য হাত ধোয়া,দাঁত ব্রাশ করা ও নখ কাটার বিষয়টি ভাল ভাবে শিখতে পেরেছি। ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুন জানায় বিদ্যালয়ের ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে একটি দল গঠন করে দূর্যোগ চলা কালীন সময়ে ও পরবর্তীকালীন কার্যক্রম তাদেরকে করণীয় বিষয়টি জানতে পেরেছি। তারা তাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সদস্যদের শিখাতে পেরে বেজায় খুশি মনে করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন প্রকল্পের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে ১টি ২৫ হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ট্যাংক স্থাপন করায় শিক্ষক ও সকল শিক্ষার্থীদের খাবার পানির সংকট দুর হয়েছে। তিনি আরো জানান এ ট্যাংক স্থাপনের পূর্বে বিদ্যালয় হতে ২ কিঃ মিঃ দূর থেকে পুকুরের পানি এনে পান করতে হতো। তার মতে এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়ায় বিগত বছরের তুলনায় আনন্দ ঘন পরিবেশে চলতি বছর ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি বেড়েছে জানিয়ে আারও বলেন ওয়াশ কার্যক্রম বিদ্যালয়ের বাৎসরিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা পূর্বে ছিলনা। তার মতে সকল বিদ্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় ওয়াশ কার্যক্রম অন্তর্ভূক্ত করা অত্যাবশ্যক। মহারাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কে এম নাজমা পারভীন বলেন রূপান্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে তার বিদ্যালয়ে ভাঙ্গাচোরা ল্যাট্রিন সংস্কার করা হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে শিক্ষক সহ শিক্ষার্থীরা।

রূপান্তরের কয়রার প্রকল্প ব্যাবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসংগে বলেন ২০১২ সালের জুন থেকে উপজেলার ওয়াটার এইড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্প ৭টি ইউনিয়নের ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হবে। তার মতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সেবা দানের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। দূর্যোগ মোকাবেলায় ৬৩টি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রকল্পের কর্মীদের উপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়ারিয়েন্টেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দূর্যোগের উপর শিক্ষা দেয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানির ট্যাংকি,ল্যাট্রিন সংস্কার সহ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানির লাইন টেনে দিয়ে খাবার পানির সংকট দূর করার কাজ অব্যহত রয়েছে। সেগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ২টি অপশনের জন্য ২ জন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করা হয়েছে।

মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মনিরুজ্জামান বলেন রূপান্তরের স্কুল ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমগুলো প্রশংসনীয়। তিনি এ ধরনের আরও প্রকল্প হাতে নেয়ার দাবী জানান। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আকবর হোসেন জানান প্রকল্পের চলমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরূপ সেবা প্রদান করলে দূর্যোগ প্রবন কয়রার শিক্ষার্থীরা উন্নত পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবে।