Sunday, June 9, 2013

পাইকগাছায় গৃহবধু ও শিশু ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা

পাইকগাছায় পথচারী এক গৃহবধু গণধর্ষন ও ১০ বছরের এক শিশুকন্যা ধর্ষিত হয়েছে। পৃথক দু’টি ঘটনা এলাকার প্রভাবশালী মহল ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা ও এখনও পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।

এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, গত ৩০ মে রাত ৯টার দিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় কয়রা উপজেলার এক গৃহবধু পার্শ্ববর্তী আশাশুনি থেকে বাড়ী ফেরার পথে পাইকগাছার কাওয়ালী (ফতেপুর) নামকস্থানে পৌছালে ভারী বর্ষনের কারনে যানবাহন না থাকায় স্থানীয় অনাথ বন্ধু রায়ের চায়ের দোকানে অবস্থান নিয়ে উপস্থিত গন্যমাণ্য ব্যক্তির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।

এসময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা পথচারী গৃহবধুকে একই এলাকার নওয়াব আলী গাজীর পুত্র আকবর গাজীর আশ্রয়ে দেয়। সে নিজ বাড়ীতে আশ্রয় না দিয়ে প্রতিবেশির বাড়ীতে রেখে আসে। পরে গভীর রাতে কয়েকজন যুবক গৃহবধুকে উপর্যুপুরি ধর্ষন করে। পরেরদিন সকালে গৃহবধু চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তির নিকট অবহিত করলে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অদ্যবধি কতিপয় যুবকরা গা ঢাকা দিয়েছে বলে সরেজমিন গিয়ে জানাযায়।

অপরদিকে গত শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে কপিলমুনিতে নাসিরপুর গ্রামের ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া ১০ বছরের এক শিশুকন্যা ধর্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৃথক দু’টি ঘটনার কোন কিছুই জানানেই বলে থানার ওসি শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান। এ ব্যাপারে ভিকটিমদের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান। পৃথক দু’টি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

কয়রায় দূর্বৃত্ত কর্র্তৃক মৎষ্য ঘেরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

কয়রার পল্লীতে দূর্বৃত্তরা এক মৎষ্য ঘেরে হামলা চালিয়ে ঘেরে মালিককে উপর্যপুরি মারপিট করে তাকে বেঁধে রেখে ঘেরের মাছ লুটপাট করে ঘেরের বাসায় অগ্নিসংযোগ করে ঘেরের বাসাটি পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাত্রে উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের ভান্ডারপোল গ্রামের এক মৎষ্য ঘেরে।

ভূক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে বৃহসম্পতিবার গভীর রাতে ৯/১০ জনের একটি দল ঘেরের বাসায় হামলা করে। হামলাকারীরা ঘের মালিক ফারুককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে মৎস্য ঘেরের জাল টেনে মাছ লুটপাট করে। দুর্বৃত্তরা ঘেরের বাসায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এসময় আগুনের লেলিহানে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন এসে ঘের মালিককে উদ্ধার করলেও ঘেরের বাসাটি সম্পূর্ন পুড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এব্যাপারে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানাগেছে।

খুলনায় চিংড়ি পোনা সংগ্রহ, নিষেধাজ্ঞা মানছেনা কেউ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খুলনাসহ উপকুলীয় জেলাগুলোর সর্বত্রই এখন চলছে বাগদা চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব। এতে বিলুপ্ত হচ্ছে অন্য প্রজাতির মাছের পোনা। 

জানা যায়, সাগরপাড়ের সোনারচর থেকে শুরু করে মৌডুবী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ তটরেখা এবং অভ্যন্তর ভাগের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিশাল এলাকায় চলে পোনা শিকারীদের তাণ্ডব। চলতি মৌসুমে পটুয়াখালির গলাচিপা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ১ হাজার পয়েন্টে বসেছে হকাররা। শিকারীদের কাছ থেকে পোনা সংগ্রহ করে তারা নিয়ে যাচ্ছে আড়তে। আড়তদারের মাধ্যমে এগুলো স্থানীয় ঘের ছাড়াও চালান হয়ে যাচ্ছে চালনা, রামপাল, বাগেরহাট, পাইকগাছা, সাতক্ষীরা, ফয়লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে অবাধে বাগদা পোনা শিকার করায় সামুদ্রিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে অন্য প্রজাতির কোটি কোটি রেণু পোনা, ডিম ও খাদ্যকণা ধ্বংস হচ্ছে।

একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে জানা গেছে, ২১২টি পোনা এবং ১ হাজার ১টি মাছের খাদ্যকণা জুপাঙ্কটন ও ফাইটো পাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে যায়। মৎস্য সম্পদের এ ক্ষতির দিকটি পোনা শিকারী, ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিবেচনায় আনছে না।

মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতির দিক বিবেচনা করে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বাগদা-গলদাসহ সব ধরণের চিংড়ি পোনা এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে অন্যান্য মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা কখনোই কার্যকর হয়নি।

তবে অনেকের অভিমত পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাগদা-গলদা পোনা আহরণ বন্ধ করা যাবে না। পোনা আহরণে ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাতকে প্রাধান্য দেয়া উচিত।

স্থানীয় মৎস্যজীবী এবং প্রবীণ জেলেরা জানান, সচেতনতার অভাব, গলদা-বাগদা পোনা শিকারে ঘন ফাঁসের নেটজালের ব্যবহার, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, বেহন্তি জালে সব ধরনের মাছ নিধন এবং ডিমওয়ালা মাছ মেরে ফেলার কারণে আশঙ্কাজনক হারে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।