Thursday, July 17, 2014

পাইকগাছায় কপিলমুনি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বাতিলের দাবি

পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি জাফর-আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, তথ্য গোপন ও নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ্যের বিরুদ্ধে সরকারি নীতি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, উপজেলার কপিলমুনিস্থ ঐতিহ্যবাহী জাফর আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের শূন্য পদে গত ৬ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৩৬৪৩৮২ নং ইনডেক্সধারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সাত্তারকে নিয়োগ প্রদান করেন। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিধিমোতাবেক অধ্যক্ষ পদে আবেদন করার অযোগ্য। বর্তমান সরকারের জারি করা জনবল কাঠামোর পরিশিষ্ট ১১(২)‘ঘ’ তে বর্ণিত অভিজ্ঞতা তার নেই।

উল্লেখিত পদের জন্য ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন অথচ নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার ০১/০৩/১৯৯৯ তারিখে মাদ্রাসায় যোগদান থেকে ০১/০৫/২০১৩ তারিখে উক্ত পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পর্যন্ত তার ১৫ বছরের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা পরিপূর্ণ হয়নি। যে কারনে বর্তমান সরকারের সময়ে জারি করা ২০১০ এর জনবল কাঠামো নীতিমালার ১১(২) অনুচ্ছেদের বর্ণনামতে তিনি নিয়োগ পেতে পারেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নিয়োগ দেয়ার পর কপিলমুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বজলু উক্ত পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন। অপরদিকে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে বলে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার জানান, ফাজিল মাদ্রাসাগুলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুসরণ করে থাকে। সে আলোকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ বৈধ বলে তিনি জানান।

কয়রায় হরিনের মাংস’সহ আটক ২

কয়রায় হরিনের মাংস’সহ দুই চোরা শিকারীকে বনবিভাগের লোকেরা গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে খুলনা রেঞ্জের হায়াত খালী টহল ফাঁড়ীর স্টাফ ১৫ কেজি হরিনের মাংস ও একটি হরিনের মাথাসহ দুই চোরা শিকারীকে আটক করেছে।

আটককৃতরা চৌকুনী গ্রামের করিম গাজীর ছেলে মহাসিন গাজি ও শহর আলী গাজীর ছেলে সাহাবুদ্দিন গাজী। গত কয়েক দিন থেকে নদীতে অস্বাভাবিক ভাবে জোয়ারের পানি বৃ্দ্ধি পাওয়ার কারনে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সূযোগ সন্ধানী চোরা শিকারীরা বনের ভেতর ঢুকে হরিন শিকার করে লোকালয়ে মাংস এনে বিক্রি করে।

চোরা শিকারী দুই জনকে আজ বেলা ১০টার সময় কয়রা জুডিসিয়া ম্যাজিস্টেট কোটে হাজির করলে, আদালত আসামীদের জেলহাজতে প্রেরন করেন।

Monday, June 30, 2014

পাইকগাছায় রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণহীন স্বেচ্ছাচারিতা

পবিত্র মাহে রমজান আসতে না আসতেই পাইকগাছা পৌর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় পৌর বাজারে ব্যবসায়ীরা বরাবরই অন্যান্য জায়গার তুলনায় জিনিষপত্রে দাম বেশি নিয়ে থাকেন। 

মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত শনিবার পৌর বাজারে যে কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা’ গতকাল রবিবার প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে বেগুনের দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ টাকায় দাড়িয়েছে। প্রতি কেজি পিয়াঁজে ৪ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, প্যাকেট ময়দা প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, খোলা আটা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, প্যাকেট আটা প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ১০০ গ্রাম আদার মূল্য ২০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা, কাচকলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, সুকনো মরিচ ১০০ গ্রামের দাম ২০ টাকা, ব্যাসন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ডিম এক হালি ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাচামরিচ (মোটা) প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পুঁইশাক প্রতি কেজি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, লালশাক প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, খিরাই প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শশা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, প্রতি পিচ বাতাবি লেবু ২ টাকা, প্রতি কেজি পেপে ২৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, পৌর বাজারে ভালোমানের পাঁকা কলা পাওয়া মুশকিল। যা কিছু আছে তা’ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা মাছ বাজারে বরাবরই ভালো কোন মাছ পাওয়া যায় না বললেও ভুল হবে না। যা পাওয়া যায় তার মধ্যে মরা-পচা কিছু তেলাপিয়া, চিংড়ি, পারশে ও পাঙ্গাশ মাছই উল্লেখযোগ্য। তাও আবার চড়ামূল্য। ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্চে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ছোট সাইজের টেংরা মাছ প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, একটু বড় হলে ৪০০ টাকা কেজি।

অপরদিকে, পৌর বাজারের প্রায় সব মুদি দোকানীরা প্যাকেটজাত মালের মূল্য প্যাকেটের গায়ে যা লেখা রয়েছে তার থেকে কম তো দূরে থাক বরং আরো বেশি রাখছেন। প্রশ্ন করলে জবাবে বলা হয়, কোম্পানী দাম বেশি রাখলে আমাদের কি করার আছে। মোদ্দাকথা পৌরবাসী বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছেন। তারা কোন কিছুরই তোয়াক্কা না করে জিনিষপত্রের দাম ইচ্ছেমত নিয়ে থাকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজারে সরকারিভাবে জিনিষপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নিয়মিত মনিটরিং না করার ফলে ব্যবসায়ীরা এ ধরনের অবৈধ সুযোগ নিয়ে থাকেন। অন্তত রমজান মাস উপলক্ষে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।