Wednesday, December 4, 2013

পাইকগাছায় পেট্রোল সোনার হরিণ; বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়

পাইকগাছায় পেট্রোল উধাও ! যা একটু পাওয়া যাচ্ছে তা আবার চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। পেট্রোল এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেকে তেল না পেয়ে ইতোমধ্যে গাড়ী বাসায় রেখে দিয়েছেন।

জানা গেছে ১৮ দলীয় জোটের টানা অবরোধে পাইকগাছায় কোন তেলের গাড়ী না আসতে পারায় তেল পাম্পসহ বিভিন্ন জায়গার তেল বিক্রেতাদের তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় জ্বালানি তেল ব্যবহারকারীদের। গত দু’দিন যাবত পাম্পসহ বিভিন্ন স্থানের তেল বিক্রেতাদের পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেকে মোটর সাইকেল বাড়ীতে রেখে বিকল্প যানে চলাচল করছেন।

আবার যা একটু তেল মিলছে তার দাম আবার খুব বেশী। বুধবার হঠাৎ করে পৌর জিরো পয়েন্টে সন্ধান মেলে তেলের। জনৈক এক ব্যক্তি তেল বিক্রি করছেন এমন খবর পেয়ে অনেকে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তেলের দোকানে। এক লিটার পেট্রোলের দাম ১৫০ টাকা। দামশুনে অনেককে ফিরে যেতেও দেখা গেছে।

গাড়ী চালক কামরুল হাসান জানিয়েছেন, কোথায়ও তেল না পেয়ে গাড়ী বাড়ীতে রেখে দিয়েছি। তেল বিক্রেতা জনৈক তৈয়েবুর জানান, যশোর থেকে অনেক ঝুকি নিয়ে তেল আনতে হয়েছে সে কারনে বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাইকগাছা এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী উজ্জ্বাল সরকার জানিয়েছেন, অবরোধের কারনে ১৫ দিন যাবত তেলের গাড়ী না আসায় তেল ফুরিয়ে গেছে। অবরোধে ঝুকি নিয়ে কেহ আসতে চাচ্ছে না সে কারনে আবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তেল আনা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে পাইকগাছায় প্রস্তুতি সভা

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ এর উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (পাইকগাছার অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ শামীম হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, আনোয়ার ইকবাল মন্টু, রতন ভদ্র, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিভাস চন্দ্র সাহা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা মোঃ আতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ্ মিহির বরন মন্ডল ও মোঃ রবিউল ইসলাম, প্রধান শিক সুরাইয়া বানু ডলি ও অপু মন্ডল, এস আই খালেক, অধ্যাপক আজাহারুল ইসলাম, প্রভাষক মোমিনুর রহমান, ময়নুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান মন্টু, তৃপ্তি রঞ্জন সেন, স্নেহেন্দু বিকাশ।

সুন্দরবনে অপহৃত ৩ শিশু উদ্ধার

বনদস্যুদের চাঁদার দাবীতে অপহৃত ৩ শিশুকে কৌশলে উদ্ধার করেছে কয়রা থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত শিশুদের তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ্য আছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ৬নং কয়রা গ্রামের ৩শিশু প্রাইভেট পড়ে বাড়ী ফেরার পথে ফাকা ওয়াপদা রাস্তা থেকে সুন্দরবনের বনদস্যুরা চোখ বেঁধে নৌকা যোগে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। অপহৃত শিশুরা হলো ৬নং কয়রা এলাকার নুরবক্স ঢালীর পুত্র গড়িয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র মেহেদী হাসান (৯), একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র শাকাবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র মোজাহিদ (১৩), আজিজুল গাজীর পুত্র গড়িয়া বাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র আবু সালেহ (১০)।

অপহৃতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বনদস্যুরা ৩ শিশুকে অপহরণের ৩ ঘন্টা পর মেহেদীর মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। মেহেদীর মা টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করায় রাত ১২টার পর বনদস্যুরা একই মোবাইল ফোনে চাঁদার টাকা নেওয়ার জন্য ১টি বিকাশ নম্বর দেয়। কয়রা থানা পুলিশ মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে কৌশলে অপহৃতদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) সুবীর দত্ত জানান, দিনরাত অভিযান চালিয়ে বনদস্যুদের দেওয়া বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে বুধবার ভোর রাতে সুন্দরবন থেকে কৌশলে শিশুদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত শিশুদের তাদের অভিভাবকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তারা সুস্থ্য আছে।

এ ব্যাপারে কাউকে গ্রেফতার কেন করতে পারেনি, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি এড়িয়ে গেলেও অপহরনকৃত বনদস্যুদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে উপকূলীয় জনপদটির প্রত্যেক অভিভাবক বনদস্যু আতংকে দিনানিপাত করছে।