Sunday, August 24, 2014

'ভয়েস অফ পাইকগাছা'য় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড়

পাইকগাছায় কলেজ ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন


পাইকগাছায় আলোচিত কলেজ ছাত্রী গণর্ধষণের ঘটনার সংবাদ
'ভয়েস অফ পাইকগাছা'সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। পরে তিনি পাইকগাছা থানা চত্ত্বরে গাছের চারা রোপন করেন।

তিনি রবিবার বিকালে ঘটনাস্থল মাহমুদকাটি পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় থানা ভবনে ভিকটিম ও তার পরিবারের সাথে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। লোহমর্ষক এ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ভিকটিম ও তার পরিবার পুলিশ সুপারের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, বর্বরোচিত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে দু’আসামীকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে পলাতক আসামীদের যেকোন মুল্যে গ্রেপ্তার করা হবে তিনি জানান। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহায়তা চান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওসি সিকদার আককাছ আলি, ওসি (তদন্ত) শ্যামলাল নাথ শ্যামল, সাংবাদিক জি,এ গফুর, হাফিজুর রহমান রিন্টু, এম.আর মন্টু, স্নেহেন্দু বিকাশ, তৃপ্তি রঞ্জন সেন, আব্দুল আজিজ, নজরুল ইসলাম ও প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন ১৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মালথ শেখপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা হরিঢালী-কপিলমুনি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রাইভেট পড়া শেষে আত্মীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়ার সময় মাহমুদকাটি পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌছানোর পর গণধর্ষণের শিকার হয়।

এ ঘটনায় ২০ আগস্ট ভিকটিম বাদী হয়ে নোয়াকাটি গ্রামের মৃত সৈয়েদ গাজীর ছেলে খোরশেদ গাজী (২৩), মাহমুদকাটির অশোক হাজরার ছেলে খুলনা সিটি পলিটেকনিক কলেজের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুব্রত হাজরা (২৪), একই এলাকার মুনছুর আলী খানের ছেলে মুনমুন খান (২৫), রহমান গাজীর ছেলে গহর গাজী (২৮) এবং দোকান মালিক সোহেলউদ্দীন গাজীর ছেলে হারুন গাজী (৩৫) কে আসামী করে থানায় মামলা করলে পুলিশ হারুন ও মুনমুনকে গ্রেপ্তার করে।

পাইকগাছার মুসা ডিগ্রি কলেজে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

পাইকগাছার গড়ইখালী শহীদ আয়ুব ও মুসা ডিগ্রি কলেজের কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে পূর্ন নিয়োগের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গড়ইখালী শহীদ আয়ুব ও মুসা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে ১জন এম.এল.এস.এস, ১ জন আয়া এবং ১ জন লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষা গত ১৯ আগস্ট খুলনার আহসানউল্লাহ কলেজে অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ উঠেছে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মেধার মূল্যায়ন না করে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীকে উপেক্ষা করে কলেজের সভাপতি লাইব্রেরিয়ান পদে আত্মীয়করণ, এমএলএসএস ও আয়া পদে অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ দানের সকল পক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

এ ব্যাপারে উক্ত নিয়োগ বাতিল পূর্বক পূর্ন নিয়োগের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জীবন সংগ্রামে হার মানেনি কপিলমুনির প্রতিবন্ধী সুজন

জীবন সংগ্রামে হার মানেনি প্রতিবন্ধী সুজন। প্রতিবন্ধীর অভিশাপ থেকে কিছুটা হলেও নিজেকে মুক্ত করতে অবশেষে ইলেকট্রনিকের কাজ বেছে নিয়েছে ৩০ বছর বয়সী সুজন অরফে পচা।

জানাযায়, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী হরিঢালী ইউনিয়নের মামুদকাটী গ্রামের দীলিপ দত্তের ছোট ছেলে সুজন দত্ত পচা। একেবারে ঠিকঠাক জানা না গেলেও ১৯৮৪ সালের কোন এক সময় মাতা গীতা রানী দত্ত’র কোল জুড়ে আসে সুজন।

প্রতিবন্ধী হয়ে সে জন্ম না নিলেও বয়স যখন ৬ মাস তখন পোলিও রোগে অক্রান্ত হওয়ায় তার ২ টি পা বিকলঙ্গ হয়ে যায়। প্রায়ই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পিতামাতা তার নাম দেন পচা। তার পা’দুটি বিকলঙ্গ হওয়ায় গ্রামের অন্য ছেলে মেয়ের মত হতভাগ্য পচার বেড়ে ওঠা সম্ভাব হয়নি। সারাক্ষণ তার বাড়ীর অঙ্গিনায় কোন রকমে ঘুরে ফিরে তার বেড়ে ওঠা।

অতি কষ্টে লেখা পড়া হয় ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত। ব্যক্তি জীবনে ২০০৯ সালে বিবাহ করে সে, তার সংসার জুড়ে আসে এক ছেলে এক মেয়ে। শারীরিকভাবে পচা সামর্থবান না হলেও মানষিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী, তার ভেতর রয়েছে ইচ্ছা শক্তি, রয়েছে মেধা শক্তিও। সে যেন জীবন সংগ্রামে এক অকুতোভয় বীর। সে সিদ্ধান্ত নিল আর জড়ো পদার্থের ন্যায় জীবন যাপন নয়। সে কর্মের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করে জড়ো জীবনকে বিসর্জন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। 


আর তাইতো শুরু হলো কর্ম জীবনের শুভযাত্রা। বাড়ীর আঙ্গিনায় রাস্তার ধারেই ছোট একটি কুড়ে ঘর বেঁধে মুদি দোকান দেয় সে। সেখানে বেশ কয়েক বছর ব্যবসা পরিচালনা করে, পাশাপাশি নিজে নিজেই ইলেকট্রনিক সামগ্রি মেরামত করতে করতে এক পর্যায়ে সে ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি হয়ে যায়। টর্চ লাইট থেকে শুরু করে টেলিভিশন মেরামত তার কাছে খুব সহজ কাজে পরিনত হয়। এরপর পচা বাড়ির আঙ্গিনা ছেড়ে উঠে আসে মামুদকাটী বাজারে। সেখানে বর্তমানে একটি ভাড়া দোকানে তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুজন দত্ত পচা বলেন, পঙ্গুত্ব আর প্রতিবন্ধী জীবন কারো কাঙ্খিত নয়। যদিও আমার জীবনের সাথে সেটা জড়িয়ে গেছে। প্রতিবন্ধী জীবনটাকে পুজি করে অভিশাপ্ত অন্ধকার গহীনে হারিয়ে যেতে চাই না, তাই তো আমার এজীবন সংগ্রাম। সকলের কাছে সহযোগীতা নয় শুধু আর্শির্বাদ চাই।