Thursday, September 11, 2014

সংস্কার কাজ অসমাপ্ত রেখেই ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কে বাস চলাচল শুরু

রাস্তার সংস্কার কাজ অসমাপ্ত রেখেই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পাইকগাছা-আঠারমাইল সড়কে সরাসরি যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তালা থেকে সকল যাত্রীবাহী মিনিবাস পাইকগাছা পৌর বাসস্ট্যান্ডে আনা হবে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই মূলত নিয়মিত ভাবে সরাসরি যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হবে।

খুলনা থেকে পাইকগাছা দুই ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে এখন সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। কখনো কখনো এরও চেয়ে বেশি সময় লাগছে। তাও আবার দুই বার বাস পাল্টাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অত্র সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কি যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবেনা।

জানা গেছে, রাস্তার সংস্কার কাজ চলার কারণে প্রধান সড়ক দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে কাশিমনগর থেকে যাতপুর পর্যন্ত বাইপাস সড়ক দিয়ে অত্র সড়কের যানবাহনগুলো চলাচল করছে। তবে বাইপাস সড়কটি অপ্রশস্ত ও ভাঙাচুরার কারণে প্রায়ই বড় বড় যানবাহন ফেঁসে যাচ্ছে। আর সে সময় রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বাস মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, কাশিমনগর-যাতপুর বাইপাস সড়কটি অপ্রশস্ত হওয়ায় উক্ত রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস’সহ যেকোন ধরনের বড় যানবাহন চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিধায় খুলনা-পাইকগাছা সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ করে এখন পাইকগাছা থেকে কপিলমুনি ও তালা থেকে খুলনা যাত্রীবাহী বাস চলাচল চালু রাখা হয়েছে। মাঝ পথে কপিলমুনি থেকে তালা পর্যন্ত যাত্রীরা অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করছেন।

কয়রার ঐতিহ্যবাহী কাছারিবাড়ির বৃক্ষমেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

উপজেলার উত্তর বেদকাশির কাছারিবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক সরদার শফিকুল ইসলাম।

গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৭ সালে সিডর ও ২০০৯ সালের আইলার জলোচ্ছাসে কয়রা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সকল প্রকার বৃক্ষ সম্পূর্নরূপে নিধন হয়ে যায়। যার ফলে অক্সিজেন সহ পুষ্টির অভাব এবং নিত্তনৈমিক্তিক আসবাপত্রের তীব্র অভাব দেখা দেয়। সে দিকটি বিবেচনা করে উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের আপামর জনসাধারনের দাবীর মুখে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলা থেকে সাধারন মানুষ ব্যাপকহারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কিনে তাদের বসতভিটায় লাগাতে শুরু করেছে। এতে গোটা উপজেলা পুনরায় সবুজের সমারোহে ভরে উঠতে শুরু করেছে। তাছাড়া এই প্রত্যন্ত জনপদে মানুষের কোন চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় মেলায় মানুষ উপস্থিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. শেখ মোঃ নুরুল হক উপস্থিত থেকে কাছারিবাড়ির বৃক্ষ মেলার উদ্ধোধন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা অফিসার ইনচার্জসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেই থেকে অদ্যাবধি বৃক্ষপ্রেমিক হাজার হাজার মানুষ মেলায় উপস্থিত হয়ে মেলাকে প্রানবন্ত করে তুলেছে।

বৃক্ষ মেলায় চিত্ত বিনোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাব, বেদকাশি কলেজিয়েট স্কুল ও বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় যৌথভাবে দি কিং স্টার সার্কাসের আয়োজন করে। এ সকল অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু একটি স্বার্থন্বেষী মহল বৃক্ষ মেলার সুনাম নষ্ট করতে শুরু থেকে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আরো জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় স্থানীয় সাংবাদিক হারুন-অর-রসিদ বৃক্ষমেলার সভাপতি ও সম্পাদকদ্বয়ের কাছে কয়রা প্রেসক্লাবের নামে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। তখন সভাপতি ও সম্পাদক’সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ তাদের দাবী মেনে না নেয়ায় সাংবাদিক হারুন-অর-রসিদ মেলার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে গোপনভাবে কয়রা প্রেসক্লাবের সৌজন্যে কিছু মেলার প্রচারপত্র তৈরী করে এলাকার বহু দেয়ালে বা গাছের গায়ে লাগিয়ে দেন। তার তৈরীকৃত প্রচারপত্র উল্লেখে গত ৮/৯/১৪ ইং তারিখের ঘটনা দেখিয়ে একটি মিথ্যা উক্তি করে মেলার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করাসহ কমিটির সদস্যবৃন্দকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ঐ সাংবাদিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং সিআর-১৮১/১৪ ।

প্রকৃতপক্ষে চাঁদা না পেয়ে এ ধরনের মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক মামলা করা হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। তিনি এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মেলা কমিটির সভাপতি’সহ মেলা কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন

পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ডোবা ও জলাশয়ে পানির অভাবে পাইকগাছার পাট চাষীরা পাট পঁচাতো পারছেন না। দু’একটি জলাশয়ের পানিতে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে পাট চাষীরা পাট কেটে স্তুপ করে রেখেছেন। পানির অভাবে পাট চাষীরা পাট পচানো নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন।

পাইকগাছা কৃষি অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাট চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা সেচ দিয়ে পাট চাষ শুরু করেন। তবে মাঝখানে মোটামুটি বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে সেই বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কৃষক সবুর মোড়ল, সত্য রঞ্জন ঘোষ, রফিকুলসহ অনেকেই জানান, ডোবাতে পানি না থাকায় তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না। এলাকায় দু’একটি জলায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য তাদের সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। একজন পাট জাগ দিয়ে পাট ধুয়ে তোলার পর আরেক জন জাগ দিতে হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, কোন কোন স্থানে যে সকল ব্যক্তি জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে তার ক্ষতি পূরণের জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে অল্প স্থানে পাট জাগ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে পাট গাছ থেকে পাটের আশ ছাড়ানো কিছুটা জটিল হওয়ায় কৃষকরা রিবন রেটিং পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেন না ঠিক তবে কৃষকদের আধুনিক রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে বেশি আগ্রহী। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আশ ছাড়িয়ে ছোট গর্তের ভিতরে পানি ভরে অনেক পাটের আশ পঁচানো সম্ভব। কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর উদ্বুদ্ধ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু হলে কৃষকদের পাট পঁচানো খুব সহজ হয়ে যাবে।