Monday, September 22, 2014

দীর্ঘ সাড়ে চার মাসেও কয়রার তের আউলিয়া জলমহালের ইজারা হয়নি

কয়রা উপজেলার তের আউলিয়া খাল (বদ্ধ) জলমহাল গত সাড়ে ৪ মাসেও প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে ইজারা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ইজারায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠান। পৃথকভাবে গঠিত তদন্ত কমিটি মসজিদকুড় রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে মতামত দিলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজস্ব হারাতে বসেছে সরকার।

দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার তের আউলিয়া (বদ্ধ) জলমহালটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে ইজারার জন্য গত ২০ মার্চে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ১৭ এপ্রিল ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ। উক্ত জলমহালের জন্য কয়রা উপজেলার দু’টি সমিতি দরপত্র দাখিল করেন পাটুলিয়া দশবাড়িয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ (৭ লাখ ৩২ হাজার ৫শ’ টাকা) এবং মসজিদকুড় রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ (৭ লাখ ১০ হাজার টাকা)।

গত ২০ এপ্রিল জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ১ম সভার প্রতিবেদন যায়, পাটুলিয়া দশবাড়িয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ-এর বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট কেস নং-১৮১/রাজ/১২-১৩ বিদ্যমান। ফলে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০০৯ এর ৫ (৪)(ছ) এবং ইজারা বিজ্ঞপ্তির ১১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক উক্ত সমিতি অযোগ্য।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এ পর্যন্ত ৩টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, যারা পৃথকভাবে তদন্ত রিপোর্টও জমা দিয়েছেন। কিন্তু অদ্যাবধি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি । সর্বশেষ তদন্ত কমিটি মসজিদকুড় রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ-এর অনুকূলে পূর্বের কমিটির মতামতে গত ১৩ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেননি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে আজ দুপুর ১২টায় জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় পর্বের বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত কমিটি দেয়া মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মৎস্যজীবিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জেলা সমবায় কর্মকর্তা খুলনা; উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কয়রা; রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি), খুলনা এবং স্থানীয় আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, দু’টি সমিতির মধ্যে মসজিদকুড় রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ একটি প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি এবং তারা জলমহালের তীরবর্তী। ফলে জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতির আলোকে উক্ত সমিতিই ইজারা প্রাপ্তির যোগ্য।

পাইকগাছায় হরতালে নাশকতার আশঙ্কায় (!!!)....

জামায়াত-বিএনপির ৪ নেতাকর্মী আটক; ২ জনকে আদালতে সোপর্দ


পাইকগাছায় হরতালে নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত-বিএনপির ৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

জানা গেছে, ২০ দলের ডাকা হরতালে নাশকতার আশঙ্কায় সোমবার ভোরে থানার এস.আই জালালউদ্দীন ও এস.আই বিশ্বজিৎ অধিকারী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকা ভবানীপুর গ্রামের মৃত নুর বক্স সানার পুত্র জামায়াতনেতা বজলুর রহমান (৫৪) ও বাঁকা ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত ছমির মোড়লের পুত্র শহিদুল মোড়ল (৩৫), দুপুরে আদালত সংলগ্ন এলাকা থেকে শ্রীকন্ঠপুর গ্রামের মৃত মিনাজ গাজীর পুত্র জামায়াতনেতা মোঃ ইসহাক আলী গাজী (৭৮) এবং পরিবহন চত্ত্বর এলাকা থেকে লতা ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বাহিরবুনিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাহার (৪৪) কে আটক করেন।

এ ব্যাপারে ওসি সিকদার আককাস আলী জানান, আটককৃতদের মধ্যে ইসহাক গাজী এবং আমিনুল ইসলাম বাহারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয় ও জামায়াত নেতা বজলু ও শহিদুলকে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা ৩৪ (১০) ১৩ নং মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পাইকগাছার ৩২টি পূজা মন্দিরকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত

পাইকগাছা পৌরসভার ৩টি’সহ উপজেলার দশ ইউনিয়নের ৩২টি পূজা মন্দিরকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ২২টি পূজা মন্দিরকে চিহিৃত করা হয়েছে। এবার মোট ১৩৮টি স্বার্বজনীন পূজা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি সমীরন সাধু বলেন, পৌর শহরের ৫টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি পূজা মন্দির, বাতিখালী হরিতলা পূজা মন্দির ও পৌর বাজার পূজা মন্দির।

হরিঢালী ইউনিয়নের ১৭টি মন্দিরের মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ মাহমুদকাটী (বিশ্বাসপাড়া) পূজা মন্দির, নগর শ্রীরামপুর পূজা মন্দির ও নোয়াকাটী মালোপাড়া পূজামন্দির।

কপিলমুনি ইউনিয়নের ১৪টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে কপিলমুনি মিলন মন্দির পূজা মন্দির, উত্তর নাছিরপুর পূজা মন্দির, কাশিমনগর সাধুপাড়া পূজা মন্দির ও কাশিমনগর মালোপাড়া পূজা মন্দির।

লতা ইউনিয়নের ১১টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ তেঁতুলতলা পূজা মন্দির, ত্রিপল্লী কাঠামারী পূজা মন্দির ও শামুকপোতা বাজার পূজা মন্দির, দেলুটী ইউনিয়নের ১৩টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিগরদানা পূজামন্দির, দারুনমল্লিক পূজা মন্দির ও জিরবুনিয়া পূজা মন্দির।

সোলাদানা ইউনিয়নের ১৪টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ ৫নং সোলাদানা ইউনিয়ন পূজা মন্দির, চারবান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পূজা মন্দির, চৌরাস্তা পূজা মন্দির ও সোনাখালী পূজা মন্দির।

লস্কর ইউনিয়নের ১৭টি’র মধ্যে লস্কর পূজা মন্দির, খড়িয়া বীণাপানি পূজা মন্দির ও খড়িয়া সুন্দরবন পূজা মন্দির।

গদাইপুর ইউনিয়নের ৪টি’র মধ্যে মঠবাড়ি রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পূজা মন্দির ও ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পূজা মন্দির।

রাড়ূলী ইউনিয়নের ১৯টি’র মধ্যে কাটীপাড়া উত্তর দাশপাড়া পূজা মন্দির, রাড়ূলী স্যার পিসি রায়’র বাড়ি পূজা মন্দির ও বাঁকা বাজার পূজা মন্দির।

চাঁদখালী ইউনিয়নের ১৩টি’র মধ্যে দেবদুয়ার মালোপাড়া পূজা মন্দির, কৈয়াছিটিবুনিয়া-গজালিয়া পূজা মন্দির ও কাটাখালী বাজার পূজা মন্দির।

গড়ইখালী ইউনিয়নের ১১টি’র মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ মাত্র একটি হোগলারচক পশ্চিমপাড়া পূজা মন্দির।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিকদার আককাস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণসহ সকল পূজা মন্দিরে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারী রাখবে।